আন্তর্জাতিক

বিজয়ের উত্থানে টালমাটাল তামিলনাড়ুর পুরোনো জোট

ভারতের দক্ষিণী রাজনীতির চেনা সমীকরণ ওলটপালট করে দিয়ে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বড় চমক দেখালেন অভিনেতা থালাপতি বিজয়। সোমবার (৪ মে) সকালের প্রাথমিক ভোট গণনার প্রবণতা অনুযায়ী, বিজয়ের নবগঠিত দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) ২৩৪টি আসনের মধ্যে ১০০টির বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। বিস্ময়কর এই ফলাফলে বিজয় এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন।

দ্য স্ট্যাটসম্যান-এর প্রতিবেদন বলছে, বিজয় সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী হলেও, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসনের ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে টিভিকে’র আরো কিছু সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে। নির্বাচনের আগে বিজয় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তিনি ডিএমকে বা এআইএডিএমকে নেতৃত্বাধীন এনডিএ- কোনো শিবিরের সঙ্গেই জোটে যাবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমানে দুটি সম্ভাবনা তুলে ধরেছেন।  

এআইএডিএমকের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা: ভোটের আগে আসন ভাগাভাগি এবং বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার শর্ত নিয়ে এআইএডিএমকের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে এবং ডিএমকে-কে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে দুই দল ফের কাছাকাছি আসতে পারে। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান কিছুটা নরম করতে পারে।

বিজেপি বিরোধিতা ও আদর্শগত অবস্থান: বিজয় তার প্রচারের শুরু থেকেই বিজেপিকে ‘আদর্শগত শত্রু’ এবং ডিএমকে-কে ‘রাজনৈতিক শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এমনকি ডিএমকে এবং বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাতের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। ফলে বিজয়ের পক্ষে বিজেপির ছায়ায় থাকা কোনো জোটের সঙ্গে হাত মেলানো বেশ কঠিন। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, বিজয় যদি এআইএডিএমকের সঙ্গে জোট করেন, তাহলে তিনি শর্ত দিতে পারেন যে এআইএডিএমকে-কে বিজেপির সঙ্গ ছাড়তে হবে।

প্রথাগত দ্রাবিড় রাজনীতির বাইরে একটি ‘নতুন পথ’ দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে নেমেছিলেন বিজয়। এখন প্রশ্ন হলো, নিজের সেই আদর্শিক অবস্থানে অনড় থেকে তিনি বিরোধী আসনে বসবেন, নাকি সরকার গঠনের তাগিদে পুরোনো রাজনৈতিক শত্রুদের সঙ্গে আপস করবেন? তামিলনাড়ুর মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে বিজয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।