হঠাৎ নামা এক পশলা বৃষ্টি কারো কাছে স্বস্তি, কারো কাছে আনন্দ। কিন্তু সেই বৃষ্টিই যখন একটি বিদ্যালয়ের আঙিনাকে ছোট্ট জলাশয়ে পরিণত করে, তখন তা আর স্বস্তির থাকে না, বরং হয়ে ওঠে ভোগান্তি, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তার প্রতিদিনের গল্প। খেলার মাঠে যেখানে শিশুদের দৌড়ঝাঁপ থাকার কথা, সেখানে এখন পানিতে ছপছপ শব্দ তুলে চলাচল করছে তাদের ছোট ছোট পা। বই-খাতা বাঁচিয়ে, কাপড় গুটিয়ে প্রতিদিনই তারা লড়ছে এক অদৃশ্য প্রতিকূলতার সঙ্গে।
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার মাওনা এলাকার মাওনা জেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে পুরো প্রাঙ্গণ, এমনকি খেলার মাঠও পানিতে ডুবে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও প্রায় আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি জমে দীর্ঘ সময় ধরে।
বিদ্যালয়ে প্রবেশ বা বের হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কোনো বিকল্প পথ নেই। বাধ্য হয়ে পানির ভেতর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই প্যান্ট-জামা হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে কোনোভাবে স্কুলে ঢুকছে। শুধু শ্রেণিকক্ষে যাওয়া নয়, এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাওয়া কিংবা শৌচাগার ব্যবহারেও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ ও ২৮ এপ্রিলের বৃষ্টির পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে চরম আকার ধারণ করে। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। নোংরা পানির সংস্পর্শে এসে শিক্ষার্থীরা চর্মরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কাও থাকছে, যা শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে এটি উপজেলার অন্যতম বড় প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানে ১৯ জন শিক্ষক কর্মরত। শিক্ষা ও ফলাফলের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও অবকাঠামোগত এই সমস্যাটি এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আয়েশা আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সবসময় উদ্বিগ্ন। যে কোনো সময় পানিতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই যায়। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো সমাধান হয়নি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা নাসরিন জানান, সমস্যাটি তাদের জানা আছে। সমাধানে পৌরসভার উদ্যোগে ড্রেন নির্মাণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ততদিন পর্যন্ত, এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে প্রতিটি বৃষ্টির দিন যেন এক একটি পরীক্ষা; যেখানে প্রশ্নপত্র নয়, মোকাবিলা করতে হয় জলাবদ্ধতার কঠিন বাস্তবতা।