ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি নিয়ে নানা সময়ে নানা কথা উঠে। কখনো তা প্রকাশ্যে আসে। কখনো থেকে যায় আড়ালে। তবে যেসব দুর্নীতির কথা সামনে আসে সেগুলো বরাবরই বিশাল অঙ্কের। কিংবা বড় কোনো ঘটনাকে ঘিরে। ছোট বিষয়গুলোতেও যে দুর্নীতির কালিমা লেগে আছে তা বরাবরই এড়িয়ে গেছে সবাই।
ঠিক তেমনই ‘ছোট জায়গায়’ নজর দিয়ে ব্রিবত বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল। অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিতে রীতিমত উৎকণ্ঠায় তামিম। নারী ক্লিনারদের (পরিচ্ছনকর্মী) জন্য বোর্ডের বরাদ্দ ৬৫০ টাকা হলেও, ক্লিনাররা পাচ্ছেন মাত্র ৩০০ টাকা করে। অর্ধেকেরও বেশি টাকা লুটে নিচ্ছে একটি চক্র।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টি-টোয়েন্টির সময় মিরপুরের গ্যালারিতে গিয়েছিলেন তামিম। সেই সময়ে বাথরুম পরিদর্শন করতে গিয়ে রীতিমত অবাক হয়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে ক্লিনারদের খবর দেন। এসময় কয়েকজন ক্লিনার তাকে জানান, পারিশ্রমিক হিসেবে দৈনিক মাত্র ৩০০ টাকা পান তারা। যা মোটেও ভালোভাবে নেননি তামিম। খোঁজ নিয়ে বিসিবি সভাপতি দেখতে পান, প্রতি ক্লিনারের জন্য বিসিবির বিল ৬৫০ টাকা করে।
কিন্তু এই অর্থের অর্ধেকেরও কম পান ক্লিনাররা। তামিমের মুখেই শুনুন বাকিটা, ‘‘এটা (ক্লিনারদের পারিশ্রমিক) শুনে আমি খুব অবাক হয়েছি। যেদিন গ্যালারিতে গেলাম, ফিনল্যান্ড থেকে সেদিন একজন মহিলা সকালেই এসে সোজা মাঠে খেলা দেখতে আসে। তিনি আমাকে খুব সুন্দর করে এসে বললেন যে, ভাইয়া যদি একটু ওয়াশরুমগুলো ঠিক করা যায়। হয়তো শুনে অবাকই হবেন যে স্টেডিয়াম যখন নির্মাণ হয়েছিল, তারপর থেকে আর বাথরুম নিয়ে কোনো সংস্কার হয়নি। যা একদমই ঠিক হয়নি।’’
‘‘তো সেদিন আমি যাওয়ার সময় ওখানে বাথরুমটা পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে থাকা একজন... আমি তাকে খালাম্মা ডাকি... তিনি বলেছিলেন, আমাদের দিনে ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়। ভিডিওতে অনেকেই হয়তো দেখেছেন। তো খালাম্মা আমাকে বললেন, এই জিনিসটা যেন আমি একটু দেখি।’’ – যোগ করেন তামিম।
পরে খোঁজ খবর নিয়ে তামিম জানতে পারেন, থার্ড পার্টি ক্লিনিং সার্ভিসের মাধ্যমে একেকজন ক্লিনারের জন্য ৬৫০ টাকা করে দেয় বিসিবি। তাই সেই থার্ড পার্টি ক্লিনিং সার্ভিস আনুসঙ্গিক খরচ ও লাভের অংশ বাদ দিয়ে একেকজন ক্লিনারের জন্য ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ রাখে কিন্তু বোর্ডের ভেতর থেকেই একজন মধ্যস্বত্বভোগী জনপ্রতি ২০০ টাকা করে নিজের কাছে রেখে দিয়ে বাকিটা ক্লিনারদের দেন। তামিম পুরো বিষয়টি জানার পর সামনের সিরিজ থেকে প্রত্যেক ক্লিনারকে ম্যাচ প্রতি ৫০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা জমা দেওয়ার নিশ্চিত দেয়া হয়েছে।