জয় দিয়ে ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের যাত্রা শুরু করলো মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ৫ উইকেটে তারা হারিয়েছে সিটি ক্লাবকে। এদিকে ঢাকা লেপার্ডসের কাছে পাত্তা পায়নি টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড। ঢাকা লেপার্ডস আবাহনীকে হারিয়েছে ৫ উইকেটে।
ঢাকা লিগের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাবের যাত্রা শুরু হলো অম্লমধুর স্বাদে। মোহামেডান এবারও বিগ বাজেটের দল গড়েছে। তারকা খেলোয়াড় নিয়ে সাজিয়েছে স্কোয়াড। আবাহনী একেবারে খারাপ দল গড়েনি। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল তারা।
আবাহনীকে হারানোর নায়ক ঢাকা লেপার্ডসের ওপেনিং ব্যাটসম্যান জাকির হাসান। আবাহনীর করা ১৮১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জাকির হাসান ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ভর করে লেপার্ডস জয় তুলে নেয় অনায়েসে। ৩০ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে আবাহনী ৮ উইকেটে ১৮১ রান করে। জবাবে ঢাকা লেপার্ডস ৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে।
আবাহনীর হয়ে এদিন রান করেছেন সাব্বির রহমান। ২৯ বলে ৫ ছক্কা ও ২ চারে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন তিনি। এছাড়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ও এস এম মেহরব হাসান ৩৮ রানের দুইটি ইনিংস খেলেন। তবে রান পাননি সৌম্য সরকার। ৬ বল খেলে মঈন খানের অফস্পিনে ধরাশয়ী হয়ে স্টাম্প হারান শূন্য রানে। অধিনায়ক মোসাদ্দেক ১৭ রানের বেশি করতে পারেননি। লেপার্ডসের হয়ে মাঈন খান ২১ রানে নেন ৩ উইকেট।
জবাব দিতে নেমে লেপার্ডস ভালো শুরু পায় জাকির হাসানের ব্যাটে। টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান অনায়েসে রান তুলে দলকে এগিয়ে নেন। তৃতীয় উইকেটে সৈকত আলীর সঙ্গে ৫০ এবং চতুর্থ উইকেটে মোহাম্মদ মিঠুনের সঙ্গে ৭৪ রানের জুটি গড়েন। মনে হচ্ছিল ফিফটি তোলা জাকির সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাবেন। কিন্তু তেমন কিছু হয়নি।
৬৬ বলে ৭৪ রানে জাকির আউট হন মাহফিজুল রাব্বীর বলে। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় সাজান ইনিংস। এছাড়া টপ ও মিডল অর্ডারে বাকিরাও রেখেছেন অবদান। জাওয়াদ ২৩, সৈকত আলী ২৮, মিঠুন ৩৭ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে এগিয়ে নেন। বাকি কাজ সারেন ইফতেখার হোসেন (৯) ও আলাউদ্দিন বাবু (৫) ।
মোহামেডানের জন্য সিটি ক্লাব অনেকটাই সহজ প্রতিপক্ষ ছিল। প্রত্যাশিত সাফল্যেই তারা শুরু করলো লিগের যাত্রা। বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৭ ওভারের ম্যাচে সিটি ক্লাব ৯ উইকেটে ১৯৪ রান করে। জবাবে মোহামেডান ৩৫.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
মোহামেডানের জয়ের নায়ক এনামুল হক বিজয়। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরে এনামুল ৮০ রান করেন। ৮৮ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় সাজান ইনিংসটি। সেঞ্চুরির সুযোগ ছিল। কিন্তু আব্দুল গাফফারের বলে আউট হয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন। রান পাননি নাঈম শেখ (৫), পারভেজ হোসেন (০) ও আফিফ হোসেন ধ্রুব (২৭)। তাওহীদ হৃদয় পাঁচে নেমে ৩৪ রান করেন। ইয়াসিরের ব্যাট থেকে আসে ৩৬ রান। তাতে জয় চলে আসে সহজে।
এর আগে সিটি ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন সাদিকুর। ৩১ রান করেন আহরার আমিন। শেষ দিকে এনামুল করেন ৩৫ রান। মোহামেডানের হয়ে বল হাতে ২০ রানে ৪ উইকেট নেন নাঈম আহমেদ। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন রিপন মন্ডল ও রিশাদ হোসেন।