যেকোনো মূল্যে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতনতা ও সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ খাতের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) সচিবালয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জনস্বার্থে কাজ করায় যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জানান এবং পরিবহন খাতে পরিবর্তন আনতে সবার সহযোগিতা চান।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের পাশাপাশি যাত্রীস্বার্থের প্রতিনিধি হিসেবে যাত্রী কল্যাণ সমিতি সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বর্তমান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভাড়া নির্ধারণ ও যাত্রীসেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করে আসছিল।
তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময় কতিপয় পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের চাপে যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে বাদ দিয়ে একচেটিয়াভাবে পরিবহন খাত চালানো হয়। ফলে নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, যাত্রী হয়রানি, সড়ক দুর্ঘটনা ও অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা বেপরোয়াভাবে বেড়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা বলেন, “পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বৃহত্তর অংশীজন যাত্রীসাধারণের মতামত ও অংশগ্রহণ জরুরি।”
তাই বিগত সরকারের বাতিল করা কমিটিগুলোতে যাত্রী কল্যাণ সমিতিকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।
বাস ভাড়া নির্ধারণ, পরিবহনের আইন ও বিধি পরিবর্তন, যাত্রী সুবিধা নির্ধারণ ও যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিটি ফোরামে মালিক-শ্রমিকের পাশাপাশি যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সভায় পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসানসহ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।