বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মহান ব্যক্তিত্বদের মূল্যায়নে প্রচলিত চিন্তার গণ্ডি থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও মুক্ত মননশীলতার চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (৪ মে) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জহির রায়হান মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী ‘সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ’, ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ৩ ও ৪ মে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম কিংবা সত্যজিৎ রায়কে সঠিকভাবে বুঝতে হলে স্বাধীন চিন্তার প্রয়োগ জরুরি। তা না হলে নির্দিষ্ট একটি চিন্তাধারার মধ্যে আটকে গিয়ে তাদের ভুল ব্যাখ্যা করার ঝুঁকি থাকে।”
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শ্রী পাওয়ান বঢ়ে বলেন, “সত্যজিৎ রায়কে ঘিরে এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করবে।”
অভিনেতা ও নির্মাতা তৌকির আহমেদ বলেন, “একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা সমাজের প্রতিচ্ছবিই তুলে ধরেন। সম্প্রতি ঢাকা ছাড়ার সময় দেখা একটি বাস্তব ঘটনা তাকে সত্যজিতের ‘পথের পাঁচালী’র শেষ দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। তার মতে, সাধারণ মানুষের বেদনা ও জীবনসংগ্রাম সত্যজিতের চলচ্চিত্রে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”
চলচ্চিত্র নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল সত্যজিৎ রায়ের জীবনদর্শনকে ‘চরৈবেতি’ বা অবিরাম এগিয়ে চলার দর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, “অপু ট্রিলজির শেষ অংশে বারবার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার যে বার্তা রয়েছে, সেটিই সত্যজিতের প্রগতিশীল চিন্তার প্রতিফলন।”
উৎসবের উদ্বোধনী দিনে (৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। ওই দিন ভারতীয় হাইকমিশনের কাউন্সিলর (শিক্ষা ও উন্নয়ন অংশীদারিত্ব) শ্রী নারপাত সিং এবং অধ্যাপক রশীদ হারুন সত্যজিৎ রায়ের জীবন ও চলচ্চিত্র ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
উৎসবের অংশ হিসেবে চারুকলা বিভাগের সহযোগিতায় আর্ট ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা অংশ নেন। সমাপনী দিনে চলচ্চিত্র বিষয়ক মাস্টার ক্লাস পরিচালনা করেন অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি, অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম এবং চলচ্চিত্র সমালোচক বিধান রিবেরু।
দুই দিনব্যাপী চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা ও সৃজনশীল আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।