সারা বাংলা

হবিগঞ্জে বন্যায় বোরো ধানের ৪৭৬ কোটি টাকার ক্ষতি

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, জেলার মোট বোরো জমির প্রায় ২০ শতাংশ প্লাবিত হয়ে অন্তত ৪৭৬ কোটি টাকার ধান নষ্ট হয়েছে। 

জানা গেছে, জেলার ৪৪টি বড় হাওরে এ বছর প্রায় ৭ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল, যা থেকে প্রায় ৫ লাখ ২৯ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চাল পাওয়ার আশা করা হয়েছিল। এই উৎপাদনের সম্ভাব্য বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। মৌসুমের শেষ সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই আশায় বড় ধাক্কা লেগেছে।

কৃষকরা জানান, এপ্রিলের মাঝামাঝি ধান পাকতে শুরু করলে শিলাবৃষ্টিতে প্রথম ধাক্কা খান তারা। এরপর গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে একের পর এক হাওর প্লাবিত হতে থাকে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে এক রাতেই বানিয়াচং উপজেলার চারটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক ছোট হাওর তলিয়ে যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, জেলার অন্তত ২৫টি হাওরের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন ধান বা ১ লাখ ৫ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন চাল নষ্ট হয়েছে।

এদিকে, বন্যা পরিস্থিতি কিছু এলাকায় স্থিতিশীল থাকলেও নতুন করে জেলার শায়েস্তাগঞ্জ ও লাখাই উপজেলায় জমি প্লাবিত হচ্ছে। উজানের ঢলে সুতাং নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন বোরো জমি পানির নিচে চলে যাচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২১ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।