গণবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সমাজকল্যাণ ও ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তুরকে (২২) মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। আহত অন্তুকে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরের দিকে সাভারের আশুলিয়ার নলাম এলাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্তদের মধ্যে মেহেদী (২৪) যশোরের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার সেনাপল্লী এলাকায় থাকেন। মেহেদী একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। অপর অভিযুক্ত শিহাব (২৬) ধামরাইয়ের বাসিন্দা। বর্তমানে আশুলিয়ার গণবিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় থাকেন। তিনি ফার্মেসি বিভাগের অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। হামলায় অজ্ঞাত ৪-৫ জন জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মনোয়ার হোসেন অন্তর সাভারের নবীনগর এলাকার মো. ইকবাল হোসেনের ছেলে। তিনি গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রান্সপোর্ট চত্বরে মেহেদী ক্যান্টিন সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করতে অন্তরকে চাপ দেন। অন্তর তা প্রত্যাখ্যান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে মেহেদী ও শিহাবসহ কয়েকজন মিলে অন্তরকে মারধর করেন। এতে তার মাথা ও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তাকে আশুলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অন্তরের স্বজন রুমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “হামলাকারীরা অন্তরকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে আরো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছি।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গকসু ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, “সাম্প্রতিক একটি বিষয়ে উপাচার্যের কক্ষে বৈঠক চলছিল। সেখানে অন্তরের বিষয়ে অভিযোগ তোলা হয়, সম্প্রতি ক্যাম্পাসে আন্দোলনে তিনি একটি বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য নিয়েই শিহাব ও সম্রাট আরো কিছু শিক্ষার্থীসহ সেখানে যান। সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতাণ্ডা হয়। পরে জানতে পারি, কথাবার্তার মধ্যেই মারামারির ঘটনা ঘটে। আমি চাই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা হোক।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কনক চন্দ্র রায় বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বা তার পক্ষের কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তার ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ’ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত দেওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন আজাদ বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত করে এই বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”