সিলেট বিভাগে চলতি মৌসুমে গড়ে ৫৭ শতাংশ জমির বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় ৭৫ শতাংশ এবং নন-হাওর এলাকায় ৩৩ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৩ মে) পর্যন্ত বিভাগের চার জেলায় ৩৩ হাজার ৯১৩ হেক্টর জমির ধান অতিবৃষ্টির ফলে পানিতে তলিয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কৃষক মো. রেজুয়ান মিয়া জানান, টানা কয়েকদিন বৃষ্টির ফলে জমি পানিতে ডুবে গেছে। ধান কাটার যন্ত্র ও শ্রমিক সংকট থাকায় তারা নিজেরাই পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন।
তিনি বলেন, “৩৩ কিয়ার (বিঘা) জমির মাঝে মাত্র ১২ কিয়ার জমির ধান কাটা শেষ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ৭ কিয়ার জমির ধান খলার মাঝে রইছে। রইদের লাগি শুকাতে পারছি না। বাকি ২১ কিয়ার জমি এখনো পানির নিচে, যা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিই বেশি।” এ অবস্থায় ধান কেটে ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতির কথা জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “আবহাওয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। হাওর এলাকার এখনো ডুবে থাকা প্রায় ২৫ শতাংশ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘মাড়াইয়ের সময় খোলা স্থানে থাকা ধানও বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার হিসাব করা হচ্ছে।”
আবহাওয়া অনুকূলে এলে নন-হাওর এলাকার পাকা ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে বলেও মনে করছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।