সারা বাংলা

খুলনায় গুলিবিদ্ধ রাজুকে ঢাকায় নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সে আবার গুলি

খুলনায় গুলিবিদ্ধ রাজু হাওলাদারকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে দ্বিতীয় দফায় গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি।

সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে রুপসা উপজেলার কুদির বটতলা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সে গুলি করা হয়।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহম্মেদ ঘটনার তথ্য জানান। রাজু হাওলাদার লবণচরা থানাধীন শিপইয়ার্ড এলাকার ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।

ওসি জাফর বলেন, গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তিকে ঢাকায় নেওয়ার পথে দুর্বৃত্তরা অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে পুলিশি সহায়তায় অ্যাম্বুলেন্সটি নিরাপদে সীমানা পার করে দেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার (৪ মে) খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার কোবা মসজিদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন রাজু। তবে গুলির সঠিক সময় কেউ জানাতে পারেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজুর পেটে গুলি লাগে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। তখন অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে আবার গুলি করা হয়।

পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র আরো জানায়, খুলনা নগরীর লবণচরা এলাকার স্থানীয় ফয়সালের ভাই ফারদিন, হেলাল, ব্লাক নয়ন, পালসার সোহেল, সোগা সোহেল ও ধলুসহ একাধিক সন্ত্রাসীর লুটের টাকার ভাগ নিয়ে মনোমালিন্য হয়। এর জের ধরে ওই বাহিনীর সন্ত্রাসীরা সোমবার দুপুরে লবণচরা থানাধীন কোবা মসজিদ এলাকায় রাজুকে লক্ষ্য একাধিক গুলি ছোড়ে। কিন্তু একটি গুলি তার পেটের বাম পাশ ভেদ করে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পুলিশ রাজুকে আটক করে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১২টা ২২ মিনিটের দিকে পুলিশ পাহারায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার শিহাব করীম বলেন, ‘‘লবণচরা এলাকায় রাজু গুলিবিদ্ধ হন। তবে ঠিক কোথায় ও কখন তার ওপর হামলা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার তথ্য পেয়েছি।’’ 

লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন বলেন, ‘‘বিষয়টি রহস্যজনক। আমরা বিভিন্ন স্থানে আহত ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্নস্থানে ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলার খোঁজ পেয়েছি।’’

ঢাকায় নেওয়ার পথে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মোশারফ বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে রাজুর অবস্থা আশঙ্কাজনক। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ‘‘রাজু ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমাদের একটা টিম রয়েছে সেখানে। টিম আসলে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে। রাজু ও হামলাকারীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।’’

তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান ওসি মোশারফ।