বিনোদন

হতাশা থেকে মানুষ এই পরিবর্তন এনেছেন, তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে কাঞ্চন

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। মমতার তৃণমূলের ঘাটিতে ফুটেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপির পদ্মফুল। পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড় উঠার পর টলিপাড়ার তারকা অভিনয়শিল্পীরা নানা মত সামনে এনেছেন। কেউ কেউ বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এবার বিজয়ী দল বিজেপিকে শুভেচ্ছা জানালেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। 

কাঞ্চন মল্লিক তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তাতে বিজেপির ঐতিহাসিক বিজয়কে সাধুবাদ জানান এই তারকা। কাঞ্চন মল্লিক বলেন, “আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে অনেক অনেক শুভেচ্ছা, যারা নতুন সরকার গড়তে চলেছেন।”  

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির কারণ অল্প কথায় ব্যাখ্যা করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন। তিনি বলেন, “এটা মানুষের রায়। হয়তো মানুষের অনেক অভিযোগ-অনুযোগ, না পাওয়া, হতাশা থেকে মানুষ এই পরিবর্তন এনেছেন।”  

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে কাঞ্চন মল্লিক বলেন, “আমি আশা রাখব, নতুন সরকার মানুষের পাশে থেকে কাজে থেকে সাধারণ মানুষের সমস্ত আশা পূরণ করবে। শুধু এটুকুই চাইব, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিবর্তন হোক শান্তির পথ ধরে, হিংসার পথ ধরে নয়।” 

একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় কর্মী ছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। দলের হয়ে ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণও করেছিলেন। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট নিয়ে উত্তরপাড়া আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। বিধায়ক থাকাকালীন পরকীয়ার অভিযোগ ওঠে, ভেঙে যায় দ্বিতীয় সংসার। পরে তৃতীয়বারের মতো অভিনেত্রী শ্রীময়ীকে বিয়ে করেন। এ নিয়ে দারুণ সমালোচনার মুখে পড়েন এই তারকা। 

তবে ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পাননি কাঞ্চন। নির্বাচনি প্রচারেও দেখা যায়নি তাকে। বলা যায়, পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর, বিজেপিকে তার অভিবাদন জানানোর ব্যাপারটিও ইতিবাচকভাবে দেখছেন না নেটিজেনরা। অনেকে তাকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন। যদিও এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি তিনি।  

বলে রাখা ভালো, গত ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ হয়। উত্তরবঙ্গের আটটি ও দক্ষিণবঙ্গের আটটি জেলা মিলিয়ে মোট ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রার্থী হন ১ হাজার ৪৫২ জন। ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৬০ লাখ।    

কয়েক দিন বিরতি দিয়ে ২৯ এপ্রিল, এ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করে নির্বাচন কমিশনার। কলকাতা ও রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার (৪ মে) ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনার। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। এতে বিজেপি পেয়েছে ২০৬টি, আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি।