সারা বাংলা

চার বছরে আটকে থাকা জীবন এগিয়ে নিতে চায় আব্দুল্লাহ

বয়স ১১, কিন্তু শরীর যেন ৪ বছরের শিশুর মতো। সময় এগোলেও থেমে আছে বেড়ে ওঠা। অজানা এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বেঁচে থাকার লড়াই করতে হচ্ছে  আব্দুল্লাহকে। উন্নত চিকিৎসার আশায় শিশুটির পরিবারের এখন একমাত্র ভরসা মানবিক সহায়তা। 

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামের একটি ছোট ঘরেই সীমাবদ্ধ আব্দুল্লাহর পৃথিবী। যেখানে তার সমবয়সীরা স্কুলে যায়, বিকালে মাঠে খেলাধুলা করে, স্বপ্ন দেখে জীবন এগিয়ে নেওয়ার, বড় হওয়ার, সেখানে  আব্দুল্লাহ বন্দি এক নিঃসঙ্গ বাস্তবতায়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাত্র ৬ মাস বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় আব্দুল্লাহর শারীরিক জটিলতা। ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ে তার দুই হাত, বদলে যেতে থাকে মুখমণ্ডলের গঠন। বয়স বাড়লেও শরীরের বৃদ্ধি আর এগোয়নি। অন্য শিশুদের মতো কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। হয়নি সমবয়সীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব। অস্বাভাবিক চেহারার কারণে অনেকেই তাকে ভয় পায়। ফলে একাকীত্বই তার জীবনের নিত্যসঙ্গী। 

আব্দুল্লাহর মা মোমেনা খাতুন বলেন, ‘‘আমার ছেলেটাকে বাঁচান, আমরা আর পারছি না। চিকিৎসা করতে করতে সব শেষ হয়ে গেছে।’’

আব্দুল্লাহর বাবা নোমান বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের চিকিৎসার জন্য গরু বিক্রি, ঋণ নেওয়া সবই করেছেন। কিন্তু এখন আর কোনো উপায় না থাকায় চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই জটিল রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। বিদেশে উন্নত চিকিৎসাই একমাত্র আশার আলো।

স্থানীয়রা বলেন, একটি শিশুর স্বপ্ন, একটি পরিবারের সংগ্রাম সব কিছু আজ থমকে আছে অর্থের অভাবে। যেখানে চিকিৎসা থেমে গেছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত সেখানে আমাদের সামান্য সহানুভূতিই হতে পারে আব্দুল্লাহর নতুন জীবনের সূচনা। সবাই যদি এগিয়ে আসে, সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমিন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে মেডিকেল টিম গঠন করে সহায়তা দেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় হতাশ পরিবারটি সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে।