আন্তর্জাতিক

লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান ‘প্রয়োজনীয়’: জার্মানি

লেবাবনের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানকে ‘প্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে জার্মানি। মঙ্গলবার (৫ মে) বার্লিনে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার-এর সঙ্গে এক বৈঠকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। খবর আল-জাজিরার।

বৈঠক শেষে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াহেডফুল সাংবাদিকদের বলেন, “সেখানে (লেবাননে) থাকার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের আছে।”

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে স্বীকৃতি দিলেও লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়াডেফুল। তিনি সতর্ক করে বলেন, “লেবাননকে এমন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না যেখানে সাধারণ মানুষকে চড়া মূল্য দিতে হয়।”

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো যোগ করেন, “ধ্বংসস্তূপের মধ্যে একটি ক্ষুব্ধ প্রজন্ম বেড়ে উঠলে তা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না।”

অন্যদিকে, ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার লেবাননে চলমান লড়াই ও আগ্রাসনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা ইসরায়েলের জন্য জরুরি। তিনি দাবি করেন, “লেবাননের কোনো ভূখণ্ড দখলের ইচ্ছা ইসরায়েলের নেই।” তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরির উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক হারে ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে।

হরমুজ প্রণালি সংকট প্রসঙ্গে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াডেফুল জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে জার্মানি এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেন, “ইরানের এই অবরোধ বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা কতটা নাজুক তা প্রমাণ করে।”

গাজা প্রসঙ্গেও কথা বলেন ওয়াডেফুল। তিনি জানান, ২০ লক্ষাধিক মানুষের দুর্দশাকে ‘উপেক্ষা করা যাবে না’ এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের বিষয়ে জার্মানির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ওয়াডেফুল লেখেন, “ইসরায়েল ও জার্মানির মধ্যকার বন্ধুত্ব সত্যিই অসাধারণ।”