সারা বাংলা

আরেকটু ভালো থাকার আশায় সাইকেলে ঘুরে ছিট কাপড় বিক্রি করেন রাবেয়া

নড়াইলের মধুরগাতি এবং এর আশপাশের এলাকায় স্থানীয়দের কাছে এ দৃশ্য পরিচিত। গ্রামীণ সরু রাস্তা ধরে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন মধ্যবয়স্কা নারী। সাইকেলের পেছনে ভারি ব্যাগ। ব্যাগে ছিট কাপড়, মশারি, শিশুদের জামা-প্যান্ট। তিনি থেমে থেমে হাঁক দিচ্ছেন ‘ছিট কাপড় লাগবে? ছিট কাপড়?’

জীবিকার প্রয়োজনে, আরেকটু ভালো করে বাঁচার আশায় সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাপড় বিক্রি করেন রাবেয়া খাতুন (৪৫)। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

গোবরা গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের দেখা হয় গত শুক্রবার, মে দিবসের এক সকালে। দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস। সরকারি ছুটির দিন। যদিও রাবেয়া খাতুনদের জীবনে ছুটি মেলে না। অভাবের সংসারে জন্ম। ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হওয়ার পরও অভাব পিছু ছাড়েনি। দিনমজুর স্বামীর সংসারে এসে এ কারণে বাড়তি আয়ের চিন্তা করতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যেই এক ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম। পরিবারে সদস্য সংখ্যা বাড়ে। বাড়ে না রোজগার। খেয়ে না-খেয়ে দিন চলতে থাকে।

রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘‘অন্যের বাড়িতে কাজ করে কিছুদিন পার করেছি। এরই মধ্যে মাথায় এল বাজার থেকে ছিট-কাপড় কিনে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করার ভাবনা। ৮ বছর তাই করছি।’’

‘‘সিঙ্গাশোলপুর, গোবরা, মধুগাতি, বিছালী, আগদিয়া, কলোড়া এলাকায় ফেরি করে ছিট কাপড় বিক্রি করি। জেলা শহর থেকে পাইকারি দরে কাপড় কিনে আনি। পরে সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিক্রি করি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাপড় বিক্রি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরি,’’ যোগ করেন তিনি। 

কথায় কথায় আরো জানা গেল, এতে রাবেয়া খাতুনের ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিনে আয় হয়। সংসার খরচের কিছুটা অর্থের জোগান দিতে পেরে তার নিজেরও ভালো লাগে। গ্রামের মহিলারাই তার প্রধান ক্রেতা।

নড়াইল সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা চৌধুরী আশিক এলাহী বলেন, ‘‘এ উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সে (রাবেয়া) আমাদের অফিসে এলে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাকে ঋণ দিয়ে সহায়তা করা হবে।’’