পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় তার গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। মোটরবাইকে এসে কয়েকজন দুর্বৃত্ত গুলি করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। গাড়ির মধ্যেই চন্দ্রনাথের পাশাপাশি গুরুতর জখম হোন গাড়িচালক ও আরো একজন সহযোগী।
সূত্রের খবর, বুধবার রাতে নিজের গাড়িতে করে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, একটি চার চাকার নিশান মাইক্রো গাড়ি দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের অনুসরণ করছিল। দোহারিয়া এলাকায় বিমানবন্দরের কাছে ঘাতক গাড়িটি হঠাৎ চন্দ্রনাথের গাড়ির গতিপথ রুদ্ধ করে। ঠিক পিছনেই ছিল তিনটি বাইক। চন্দ্রনাথের গাড়ি থামতেই পিছন থেকে বাইক থেকে নেমে আসেন দুর্বৃত্তরা। এরপরে পরপর পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গাড়িতেই লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রনাথ। দুর্বৃত্তরা এরপর চার চাকা গাড়িটি ফেলেই মোটরবাইকে উঠে চম্পট দেয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই গাড়িচালক প্রায় এক কিলোমিটার গাড়ি চালিয়ে মধ্যমগ্রামের বিভা সিটি মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতালে পৌঁছান। তবে সেখানে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথ রথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চন্দ্রনাথের ওপর গুলি চালানোর খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে ছুটে আসেন শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচী, বিধায়ক শংকর ঘোষ, বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া, বিধায়ক অর্জুন সিং, বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, বিধায়ক সজল ঘোষ, বিধায়ক ড. রাজেশ কুমার সিং সহ দলের শীর্ষ নেতারা। দলে দলে জমায়েত হন কর্মী-সমর্থকরাও। ছুটে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পুলিশ সুপার পুষ্পা সহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
বুধবার দিবাগত রাতেই হাসপাতাল, ঘটনাস্থল ও চন্দ্রের গাড়ি থেকে পৃথক পৃথকভাবে আলামত সংগ্রহ করেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথের ময়না তদন্ত বারাসাত জেলা সদর হাসপাতালে হবে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্তা জানান, “অপরাধে ব্যবহৃত নিশান মাইক্রো গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গাড়িটিতে শিলিগুড়ির একটি ভুয়া নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোল উদ্ধার হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, এখনই এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”
শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “গত দুদিন ধরে নজরদারি চালিয়ে, একটি ভুয়া নাম্বার প্লেট লাগানো গাড়ি নিয়ে এসে এই খুন করা হয়েছে। আমরা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। দলীয় কর্মীদের অনুরোধ করব কেউ আইন হাতে নেবেন না। আমরা সরকারে এসেছি, দু-তিন দিনের মধ্যেই বিজেপি পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব নেবে। অভয়ার মতো যাতে বিচারহীন না থাকে, আমরা তার ব্যবস্থা করব।”
তিনি আরো জানান, বিজেপি ওই পরিবারের পাশে থাকবে এবং বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর শেষকৃত্যের কাজ সম্পন্ন হবে।
অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও গত ১৫ বছরে তৃণমূল যে হিংসার পরিবেশ তৈরি করেছে, তারই পরিণতি চন্দ্রনাথের এই খুন। এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”