খেলাধুলা

আদালতে ‘বড় ভুল’ স্বীকার করলেন ওয়ার্নার

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তারকা ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, আলোচনায় এসেছেন ভিন্ন এক কারণে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। আর এই ঘটনায় ওয়ার্নারের সিদ্ধান্তকে “বেপরোয়া ও নির্বোধসুলভ” বলে মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী।

গত ৫ এপ্রিল সিডনির পূর্বাঞ্চলে পুলিশের নিয়মিত তল্লাশির সময় থামানো হয় ওয়ার্নারকে। প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহ হওয়ায় তাকে মারুবরা থানায় নেওয়া হয় দ্বিতীয় দফা শ্বাস- পরীক্ষার জন্য। সেখানে তার শরীরে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.১০৪, যা বৈধ সীমার দ্বিগুণেরও বেশি।

এরপরই মাঝারি মাত্রার মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ আনা হয় ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আদালতে হাজির হতে হয়নি ওয়ার্নারকে। মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন। তবে আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে তার আইনজীবী ববি হিল জানিয়ে দেন, পরে দোষ স্বীকার করতে পারেন ওয়ার্নার।

তিনি বলেন, “ডেভিড জানে সে ভুল করেছে। গাড়িতে ওঠার সিদ্ধান্তটা ছিল বোকামি। উবার ডাকলেই পারত।”

আইনজীবীর দাবি, ইস্টার সানডের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ৩ গ্লাস ওয়াইন পান করেছিলেন ওয়ার্নার। তবে শেষ পানীয় গ্রহণের মাত্র ১১ মিনিট পরই পুলিশ তাকে থামায়। এছাড়া দ্বিতীয় শ্বাস-পরীক্ষা নিতে পুলিশের ৫২ মিনিট সময় লাগার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।

তবে নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুতপ্ত ওয়ার্নার। আইনজীবীর ভাষায়, “সে বুঝতে পেরেছে নিজের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। এজন্যই আদালতের কাছে নমনীয় আচরণ আশা করবে। কিন্তু সে এটাও জানে, অন্য যেকোনো নাগরিকের মতোই তাকে শাস্তি পেতে হবে।”

ক্রিকেট নিউ সাউথ ওয়েলসও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী লি জারমন জানিয়েছেন, নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থার পক্ষে তারা সবসময় অবস্থান নেয় এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই ঘটনার পর সিডনি থান্ডারের অধিনায়ক হিসেবে ওয়ার্নারের ভবিষ্যৎ কী হবে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মজার বিষয় হলো, ঘটনার সময় ওয়ার্নার পাকিস্তান সুপার লিগ খেলে দেশে ফিরেছিলেন। করাচি কিংসের অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি। ৭ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে গড়ে ৫১.২০ রান, সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৯।

অভিজ্ঞ এই ওপেনার পরে আবারও পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে প্রতিযোগিতায় যোগ দেন। তবে মাঠের দারুণ ফর্মের মাঝেও ব্যক্তিগত এই বিতর্ক এখন তার ক্যারিয়ারে নতুন চাপ তৈরি করেছে।