টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের চার জেলার হাওরাঞ্চলে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেটের হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, এই চার জেলায় অন্তত ৬০৬ কোটি ৮২ লাখ ৭২ হাজার টাকার ফসলহানি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে, যার মধ্যে পানিতে নষ্ট হওয়া ধানের মূল্য দাঁড়ায় ২১১ কোটি ৮১ লাখ ৭২ হাজার টাকা। একইসঙ্গে কাটার পর শুকানোর অভাবসহ নানা কারণে নষ্ট হওয়া ধানের দাম ১৩৪ কোটি ১ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৯০৪ জন কৃষক।
আরো পড়ুন: সিলেট অঞ্চলে ধান-চাল সংগ্রহে এবার সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা
হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) দ্বীপক কুমার পাল বলেন, “চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৬৫২ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। প্রায় ২৪ হাজারের মতো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমরা তাদের সহায়তার আওতায় নিয়ে আসছি।”
সুনামগঞ্জে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যায়। এর মধ্যে চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৬ হাজার ৩৯৫ হেক্টর জমির ফসল।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, জেলায় প্রায় ১৯৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ৯১৩টি পরিবার।
আরো পড়ুন: সিলেট বিভাগে পানিতে তলিয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর ফসল
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বরত) সমর কুমার পাল বলেন, “এখন পর্যন্ত ধান কর্তনের হার ৮০ শতাংশ। প্লাবিত জমির পরিমাণ ২০ হাজার হেক্টর, যা মোট আবাদের নয় শতাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ১৬ হাজার হেক্টর, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণে যা ১৯৬ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের সংখ্যা ৫০ হাজার ৯১৩টি। এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৬০ জন।”
কেটে আনা পানিতে ভিজে যাওয়া ধান মাথায় নিয়ে ফিরছে কৃষক পরিবারের সন্তান
মৌলভীবাজার জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। সেখানে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “মৌলভীবাজারে ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা।”
এছাড়া, সিলেট জেলায় ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। বৃষ্টি ও ঢলে ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের কর্মকর্তারা।
সিলেটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুজ্জামান বলেন, “সিলেটে ৮৮ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। সেখানে বৃষ্টি ও ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল। এতে ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দিতে কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে।”