সারা বাংলা

মুন্সীগঞ্জে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হওয়া খাল খনন কর্মসূচিকে একটি আন্দোলন ও বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, “বর্তমান সরকার সেই কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু করেছে এবং তা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।”

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৮টায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামাল্দী এলাকায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি মন্ত্রী উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়ার কাজলী নদী পুনঃখননের সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেন। নদীতে স্থানীয় শিল্পকারখানার বর্জ্য ফেলার কারণে ভরাট হয়ে যাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পানি সম্পদ মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন পর খাল খনন কর্মসূচি চালু হওয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হচ্ছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে, কৃষি কাজে সহায়তা মিলছে এবং মৎস্য চাষের সুযোগ বাড়ছে।” আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করা গেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাল খননসহ নানা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।” শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করেই বিএনপি সরকার দেশের উন্নয়নে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, “এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে হোসেন্দী ইউনিয়নের কৃষি ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। পর্যায়ক্রমে গজারিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফজলুল করিম জানান, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি পুনঃখনন করা হচ্ছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৯ লাখ ৭৫ হাজার ৯৫৪ টাকা। খাল পুনঃখনন শেষ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং সেচ সুবিধা বাড়ার ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, জেলা পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. হামিদা মুস্তফা, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান আলীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।