বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে বাজারে স্পেকুলেটিভ ইনফ্লেশন (অনুমাননির্ভর মূল্যবৃদ্ধি) বড় সমস্যা। ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লেও বাজারে যেভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে এটি বাস্তবসম্মত নয়।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেটে জেলা পরিষদের ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘‘দেশের তুলনায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি খুবই মডেস্ট। ডিজেলের দাম ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু এর অভিঘাত একটা ওয়ান টাইম স্পাইক। এটা স্পাইরাল করবে না, স্টিকিও হবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘অনেকেই মনে করছেন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে সব ধরনের পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে পরিবহন ব্যয়ে যে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে, তা তুলনামূলকভাবে সীমিত।’’
ডিমের বাজারের উদাহরণ দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘‘একটা ট্রাকে হাজার হাজার ডিম আসে। খাদিমগর থেকে সিলেট শহরে একটি পিকআপে যে পরিমাণ ডিম যায়, সেখানে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতিটি ডিমের ওপর কতটুকু খরচ বাড়ে, সেটা হিসাব করলেই বোঝা যাবে।’’
বাজারে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচ বৃদ্ধির চেয়ে ‘দাম বাড়বে’ এমন ধারণা থেকেই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। এটিকেই তিনি ‘স্পেকুলেটিভ ইনফ্লেশন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘‘আমি অনুমান করে বললাম দাম বাড়বে, আর সেই সুযোগে দাম বাড়িয়ে দিলাম এটা ঠিক না।’’
এ সময় গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘‘এই স্পেকুলেটিভ ইনফ্লেশন যেন না হয়, সেটার দায়দায়িত্ব আমাদের সবার। বিশেষ করে গণমাধ্যমের ভাই-বোনদেরও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।’’
কেউ বাজার নিয়ন্ত্রণ বা অযৌক্তিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করলে সফল হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘বাজার তো বাজারের মতোই চলে। কেউ যদি মার্কেট ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে, সেটা সুখকর হবে না। সরকার চায় না কাউকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি করতে। তবে কেউ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু তৎপরতা চালালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’