বলিউডের বরেণ্য অভিনেত্রী তনুজার দুই কন্যা। তারা হলেন—কাজল মুখার্জি ও তানিশা মুখার্জি। বলিউডে পা রেখে দারুণ খ্যাতি কুড়িয়েছেন কাজল। পাশাপাশি তানিশাও রুপালি জগতে পা রেখেছেন।
বিতর্কিত টিভি রিয়েলিটি শো বিগ বসের সপ্তম সিজনে অংশ নিয়েছিলেন তানিশা। এ আসরে ফার্স্ট রানার আপ নির্বাচিত হন এই অভিনেত্রী। তবে তার এই যাত্রা মোটেও সুখকর ছিল না। এটিকে ‘ট্রমাটিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তানিশা। পাশাপাশি এই রিয়েলিটি শোকে ‘মানসিকভাবে কষ্টদায়ক’ ও ‘আবেগগতভাবে ভীষণ চাপের’ বলেও জানান এই তারকা।
পডকাস্ট মামারাজিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তানিশা মুখার্জি বলেন, “বিগ বসের সপ্তম সিজনে আমার অনেক কথোপকথন কেটে দেওয়া হতো। কারণ আমি ভালো হিন্দি বলতে পারতাম না, ফলে ইংরেজিতে কথা বলতাম। এই মঞ্চে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতাম না, যাতে ঝগড়া বা খারাপ পরিস্থিতি তৈরি না হয় এবং আমার পরিবারের প্রতি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া না যায়।”
বিগ বসের ঘরে যখন তানিশা ছিলেন, তখন অপরিণত ছিলেন বলে মত তার। এ অভিনেত্রী বলেন, “বিগ বসের শো থেকে বের হওয়ার আগে বুঝতেই পারিনি, অন্য প্রতিযোগীরা স্ক্রিন টাইম পাওয়ার জন্য কাজল, অজয় দেবগনের নাম ব্যবহার করছিলেন। আসলে আমি তখন খুব সরল, অপরিণত ছিলাম। এখন হলে নিজেকে এমন পরিস্থিতি ফেলতাম না, যেখানে আমার পরিবার সম্পর্কে যা খুশি বলার অধিকার পায়। এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক বেশি সচেতন করে তুলেছে। কারণ মানুষ সত্যিই আমার পরিবারের পেছনে লেগেছিল। এমনকি, চ্যানেল কর্তৃপক্ষও মাঝে মাঝে আমাকে কষ্ট দিয়েছে।”
এ আলাপচারিতায় তানিশার কাছে জানতে চাওয়া হয়, বিগ বসের অভিজ্ঞতা ট্রমাটিক ছিল কি না? জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই।” বিগ বসের ঘরের বন্ধুত্বকে ‘ট্রমা বন্ড’ বলেও মন্তব্য করেছেন তানিশা। ব্যাখ্যা করে এ অভিনেত্রী বলেন, “মানুষ যখন সেই ট্রমা থেকে সেরে ওঠে, তখন বুঝতে পারে সেই বন্ধুত্বগুলোর প্রকৃত বাস্তবতা।”
তানিশা যখন বিগ বসের ঘরে ছিলেন, তখন তার পরিবারের কেউ সেখানে যাননি। পরিবারের কেউ কেন যাননি, তা জানতে চাইলে তানিশা বলেন, “তারা বিনা পয়সায় কেন আসবেন? এটাও তো একটা টিভি শো। এখানে সবাই পারিশ্রমিক পাচ্ছেন।”
বিভিন্ন টিভি রিয়েলিটি শোয়ে কাজ করে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন তানিশা মুখার্জি। বলিউড সিনেমায় কাজ করলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। আপাতত সিনেমা থেকে দূরে রয়েছেন। তবে বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ওয়েব সিরিজে কাজ করছেন তানিশা।
*টাইমস নাউ অবলম্বনে