সেঞ্চুরি যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য পরম আরাধ্য। ২২ গজে ব্যাটসম্যানদের তীব্র লড়াই সেঞ্চুরি এনে দেয় পূর্ণতা। আর সেই মঞ্চটা যদি হয় টেস্ট ক্রিকেট তাহলে আনন্দটা হয়ে যায় দ্বিগুন। এই আনন্দটা শুধু ব্যাটসম্যান নিজেই উপভোগ করেন না, করেন তার সমর্থক, সতীর্থ, পরিবারের সদস্যরা।
মুমিনুল হক এই উপলক্ষ্যটা প্রায় প্রতিনিয়তই তৈরি করছেন। কিন্তু খুব কাছে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। আজ আরও একবার হলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ারে প্রথমবার নার্ভাস নাইন্টিজে আউট হলেন। এর আগের তিন টেস্ট ইনিংসে তার রান যথাক্রমে ৮২, ৬৩ ও ৮৭। বারবার একই ভুল। একই কাজ। ২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর মুমিনুলের ব্যাটে নেই কোনো সেঞ্চুরি। মাঝে আরও তার ফিফটি ছিল। অথচ সেঞ্চুরির খোঁজ নেই!
মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১৩টি করে। মুমিনুলের সূবর্ণ সুযোগ ছিল শেষ কয়েক ম্যাচেই নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার। কিন্তু বারবারই ব্যর্থ হচ্ছে। আজও হলো। আফসোস হয় না তার? সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকেই।
উত্তরে মুমিনুল যা বললেন তা অপ্রত্যাশিতই ছিল সবার আছে, ‘‘না, আক্ষেপ হয় না। তবে আজকে সামান্য আক্ষেপ হয়েছিল কারণ হয়তো বাসায় ফেরার পর বউ বকা দিতে পারে। তবে সত্যি বলতে, আমার কাছে ১০০ করার চেয়ে প্রতিদিন দলের জন্য রান করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’ নোমান আলীর একটু নিচু হওয়া বল জোড়া পায়ে খেলতে গিয়ে মুমিনুল এলবিডব্লিউ হন ৯১ রানে। শেষ তিন ইনিংসে সেঞ্চুরি না পাওয়ায় আজ আশির ঘরে ঢোকার পর কিছুটা স্লো খেলেছেন মুমিনুল। তাতে চাপ বেড়েছিল তার ওপর। যদিও মুমিনুল স্বীকার করলেন না স্লো হয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা জানাতে গিয়ে মুমিনুল যোগ করেন, ‘‘না, আমার মনে হয় না যে আমি মন্থর হয়ে গিয়েছিলাম। আমি দেখছিলাম যে সে সময় রানের জন্য অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন ছিল না। টার্গেট ছিল আরও এক ঘণ্টা খেলা, এবং সাধারণ ক্রিকেট খেললে সেটি সম্ভব ছিল। বোলার ভালো বল করছিল এবং আমি স্বাভাবিকভাবেই খেলছিলাম, তবে একটি বল কিছুটা নিচু হয়ে যাওয়ায় আউট হয়ে যায়।’’
সেঞ্চুরি নিয়ে মুমিনুলের উপলব্ধি, ‘‘সেঞ্চুরি আসলে সবাই চায়। আমি বর্তমানে নিজের ব্যাটিং উপভোগ করার চেষ্টা করছি এবং অতিরিক্ত চিন্তা না করে স্বাভাবিক পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলছি। আমার লক্ষ্য থাকে নিজের প্রক্রিয়ায় স্থির থাকা। কোনো মানসিক বিষয় থাকতে পারে, যা আমি এখনো পুরোপুরি চিহ্নিত করতে পারিনি। তবে আমি চেষ্টা করছি আরও বেশি মনোযোগী হতে যাতে ব্যাটিং সেশনগুলো দীর্ঘায়িত হয়। সেশন বড় করতে পারলে সেঞ্চুরি এমনিতেই আসবে।’’