নতুন বল তখনও পুরোনো হয়নি। টেস্টের বয়স মাত্র ১০.১ ওভার। ততক্ষণে পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান ও সাদমান ইসলাম সাজঘরে। ক্রিজে মুমিনুল হকের সঙ্গী নাজমুল হোসেন শান্ত। দল খানিকটা ব্যাকফুটে। উইকেটের দুই পাশে বিশ্বমানের পেসার। একটু হেলদুল হলেই বিপর্যয়।
২২ গজে দিয়ে অধিনায়ক নাজমুল সব সামলে নিলেন নির্ভয়ে, দাপট দেখিয়ে, পাল্টা আক্রমণ করে। তাতে চাপে পড়ে পাকিস্তানের বোলাররা হারালেন মনোবল। বল যত পুরোনো হলো, বাংলাদেশের ব্যাটিং তত সতেজ হতো। সঙ্গে ২২ গজে বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে পথ চলা শুরু হলো। এরপর দিন শেষ করলো ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে। যার কৃতিত্ব নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ ও মুমিনুল হকের ৯১। তৃতীয় উইকেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭০ রানের জুটি গড়ে দুজন বাংলাদেশ শিবিরে এনেছেন স্বস্তির পরশ।
এই জুটির রানের জন্য মুমিনুল কৃতিত্ব দিলেন নাজমুলকে। তার প্রতি আক্রমণে যাওয়াতেই পরিস্থিতি সহজ হয়েছিল দাবি মুমিনুলের। দিনের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মুমিনুল বলেছেন, ‘‘সামগ্রিকভাবে চিন্তা করলে, নতুন বলে এই উইকেটে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি ছিল। বল দুই দিকেই মুভ করছিল এবং সুইং হচ্ছিল। আমাদের ওপেনাররা ভালো বলে আউট হয়েছে। তবে শান্ত যখন এসে পাল্টা আক্রমণ শুরু করল, তখন বোলাররা পিছিয়ে পড়ে। শান্তর ইনিংসটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।’’
মোহাম্মদ আব্বাসকে অন ড্রাইভে চার। শাহীন শাহ আফ্রিদিকে কাভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠানো। হাসান আলীর বল পুল করে চার। নাজমুলের শুরুটা ছিল এমন দুর্দান্ত। শুরুতে এই আত্মবিশ্বাস পাওয়ায় তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়। তুলে নেন ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি। যেভাবে হাত খুলে নাজমুল ব্যাটিং করেছেন, যে মানসিকতা দেখিয়েছেন তা প্রশংসার প্রাপ্য। মুমিনুলও তাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘‘আমি যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন অন্য প্রান্তে বড় খেলোয়াড়দের ব্যাটিং উপভোগ করতাম। আমার চোখে দেখা শান্তর এই ইনিংসটি তার জীবনের অন্যতম সেরা ইনিংস। শান্ত বর্তমানে দারুণ ফর্মে আছে; শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং বর্তমান সিরিজেও সে রান করছে। চাপের মধ্যেও সে যেভাবে পারফর্ম করছে, তা অসাধারণ। ক্রিজের বাইরে এসে খেলার বিষয়টি তার একটি পরিকল্পনা ছিল, যাতে বোলার (আব্বাস) এক জায়গায় বল করার সুযোগ না পায় এবং মুভমেন্ট সামলানো সহজ হয়।’’
মুমিনুলের বিশ্বাস, ‘‘এই ছন্দ বজায় রাখতে হলে একই মানসিকতায় থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী হওয়া যাবে না, আবার ভেঙেও পড়া যাবে না। ব্যাটিংয়ের নির্দিষ্ট প্যাটার্নটি ধরে রাখতে পারলে নিয়মিত রান করা সম্ভব।’’
নাজমুলের সেঞ্চুরির রূপান্তরের হার অন্যরকম। ১৪ ফিফটির মধ্যে ৯টি সেঞ্চুরি। মুমিনুল শান্তকে নিয়ে যোগ করেন, ‘‘এটি আমাদের ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষণ। শান্তর মধ্যে রান করার ক্ষুধা আছে এবং সে দলের জন্য সেরাটা দিতে চায়। কারো না কারো তো এই রেকর্ডগুলো গড়তে হবে যা ভবিষ্যতে অন্যরা ভাঙবে।’’