আন্তর্জাতিক

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মধ্যে আবারো সংঘর্ষ

যুদ্ধবিরতি চলা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত রাতের হামলা-পাল্টা হামলার পর আজ আবারো দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, “গত এক ঘণ্টা ধরে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ হয়েছে।”

গত এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এই ঘটনার ফলে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন বাহিনী তাদের বেসামরিক ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

গত রাতেই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি সামরিক অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় এক কড়া বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, কোনো ধরনের চাপের কাছে ইরান মাথানত করবে না।

শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন এই আচরণ কি কেবলই কোনো সস্তা চাপের কৌশল, নাকি কোনো তৃতীয় পক্ষ আবারো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভুল বুঝিয়ে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আরাঘচি বলেন, “প্রতিবার যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র হঠকারী সামরিক অভিযানের পথ বেছে নেয়।”

তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং তা উৎক্ষেপণের সক্ষমতা যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে ‘১২০ শতাংশে’ পৌঁছেছে। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি একটি মার্কিন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট যুক্ত করেন, যেখানে বলা হয়েছে-সিআইএ দেখেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের পরও ইরান আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি অস্ত্রশস্ত্র অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।

এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে ঘটল যখন ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে ইরানের চূড়ান্ত উত্তরের অপেক্ষায় আছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের কাছ থেকে একটি জবাব পাওয়ার আশা করছেন তারা।