খেলাধুলা

বিশ্বকাপে খেলবে ইরান, তবে আয়োজকদের সামনে ১০ শর্ত

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে ইরান। তবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর সামনে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে নিজেদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতেই এই অবস্থান নিয়েছে তেহরান।

ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপে খেলবে, কিন্তু দেশের বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে কোনোভাবেই সরে আসবে না। একই সঙ্গে আয়োজকদের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা ও সম্মান চেয়েছে তারা।

গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে কানাডায় অনুষ্ঠিত ফুটবল কংগ্রেসে দেশটির ফুটবল প্রধান মাহদি তাজকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে মাহদি তাজ জানিয়েছেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে তারা ১০টি শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নির্বিঘ্নে ভিসা প্রদান, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীতের প্রতি সম্মান দেখানো এবং বিমানবন্দর থেকে হোটেল ও স্টেডিয়াম পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যেসব খেলোয়াড় অতীতে সামরিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রেও যেন কোনো বাধা তৈরি না হয়। বিশেষ করে মেহদি তারেমি ও এহসান হাজসাফির মতো ফুটবলারদের নাম উল্লেখ করে ভিসা নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছে তারা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের ফুটবলারদের বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।

২০২৬ বিশ্বকাপে ইরান খেলবে ‘জি’ গ্রুপে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড, বেলজিয়াম ও মিসর। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়ার কথা ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান।