উইকেটে ছিল ঘাস। ততটা সতেজ নয়। তবুও পেসারদের জন্য আদর্শ। এমন উইকেট তাদের জন্য স্বর্গরজ্যের মতোই। টনি হেমিং মিরপুরের আউটফিল্ড সবুজাভ করে ফেলেছেন। এখন মাঠ ও উইকেট অনেক সময়ই আলাদা করা যায় না।
এমন উইকেটে পেসাররা হাসবেন তেমনটাই আশা করা যায়। মোহাম্মদ আব্বাসের ফাইফার ও শাহীন শাহ আফ্রিদির ৩ উইকেট তারই প্রমাণ করে। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে হলো উল্টোটা। তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও ইবাদত হোসেন পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিন ছিলেন একেবারেই বিবর্ণ।
পেস ত্রয়ী গতির ঝড় তুললেন ঠিকই। কিন্তু হারালেন ছন্দ। বারবার ভুল করলেন লাইন ও লেন্থ। তাতে নেমে আসল বিপদ। ২২ গজে অসাধারণ ব্যাটিং করে পাকিস্তান বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবটা দিল দারুণ। ১ উইকেট হারিয়ে অতিথিরা জমা করেছে ১৭৯ রান। অভিষিক্ত আজান আজওয়াইজ ৮৫ রানে ব্যাটিংয়ে। আব্দুল্লাহ ফজল করেছেন ৩৭ রান।
কোথায় গণ্ডগোল করলো বাংলাদেশ? শনিবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে উত্তর দিয়েছেন বাংলাদেশের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, ‘‘আমরা একটু এলোমেলো বল করছি।’’ এই এলোমেলোটা কেমন সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন, ‘‘দেখুন, মানসিক দিক থেকে যেকোনো ফাস্ট বোলারই উইকেটে ঘাস দেখলে স্বাভাবিকভাবে একটু বেশি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যখন বল মুভ করে, গতি থাকে, তখন বোলারদের মনে হয় শুধু পেস দিয়েই ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করা সম্ভব।’’
‘‘আমার মনে হয়, পাকিস্তানের তুলনায় আমরা হয়তো একটু বেশি গতিনির্ভর হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এই ধরনের উইকেটে ভালো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে বল করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বুঝতে পারছি যে আজ বেশ কিছু ভুল হয়েছে, আর যেন কাল সেগুলো না হয়, সেটি নিয়েই আমরা কাজ করছি।’’ – যোগ করেন তিনি।
ব্যাটিংটাও আরো ভালো হতে পারত বলে মত সালাহউদ্দিনের, ‘‘সকাল বেলা পাকিস্তান ভালো বোলিং করছে। আমাদের জুটি হওয়া কঠিন ছিল। আরেকটা ভালো জুটি হতে পারলে আমাদের জন্য ভালো হতো। আমরা ৪০০ রান ক্রস করছি। আমার মনে হয় আর ৫০-৬০ রান করলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো।’’
৫ উইকেট নিয়ে মোহাম্মদ আব্বাস বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন। সকালের সেশনে লিটন, মিরাজ ও তাইজুলের উইকেট নেন তিনি। পরে ইবাদতের উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ফাইফার। তার বোলিং থেকে বাংলাদেশের পেসারদের শেখার আছে বলে মনে করেন সালাহউদ্দিন, ‘‘ও আসলে জায়গা ছাড়ে না। একটা জায়গায় ধারাবাহিকভাবে করে যেতে পারে। এটা তার স্ট্রেন্থ। সে এটা আগেও করেছে। এই উইকেটে যেহেতু একটু মুভমেন্ট ছিল ও সেটা খুব ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছে। কালকে আমরা ভালোভাবে হ্যান্ডেল করছিলাম। আজকে ব্যাটসম্যান কম ছিল এই কারণে হয়তো ওদের জন্য সহজ হয়েছে।’’
উইকেট নিয়ে সালাহ উদ্দিনের মত, ‘‘দেখুন, আমার মনে হয় এই উইকেটে বোলারদের জন্য, বিশেষ করে ফাস্ট বোলারদের জন্য অনেক কিছু করার আছে। আজ আমরা একটি সেশনে ভালো বোলিং করতে পারিনি, আর সেটা সবার কাছেই স্পষ্ট। সবাই বুঝতে পারছে যে আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারিনি। তবে এটা ঠিক করা সম্ভব, এবং খুব দ্রুতই সেটা করতে হবে। কারণ আমাদের ফাস্ট বোলাররাই সবসময় দলকে ম্যাচ জিতিয়েছে, আর তারা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তাই আমার বিশ্বাস, তারা কাল আরও ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াবে।’’
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছে। তবে আশা হারাচ্ছেন না সালাহউদ্দিন। নতুন করে পরিকল্পনা সাজিয়ে মাঠে নামতে পারলে বাংলাদেশের কামব্যাকের সুযোগ আছে বলে মনে করেন তিনি, ‘‘পাকিস্তান খুব ভালো বোলিং করছে। আমাদের সারাক্ষণই চ্যালেঞ্জের মধ্যে রেখেছে। তারা ম্যাচে খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসছে। ব্যাটিংটাও বলব তাদের ওপেনাররা ভালো ব্যাটিং করেছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভালো ব্যাটিং করেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। টেস্ট ক্রিকেট কামব্যাক করার অনেক সুযোগ আছে। আজকে আমরা রি-এসেস করবো। কোথায় বল করতে হবে এই উইকেটে। কোন জায়গায় করলে ব্যাটসম্যানের জন্য কঠিন হবে। আমরা কালকে আবার ভালোভাবে কামব্যাক করতে পারব।’’