খেলাধুলা

নাহিদের ভয়ঙ্কর শর্ট বল মাথায় আঘাতের পর যেভাবে উজ্জলতা ছড়িয়েছেন আজান

নতুন বল তখনও জ্বলজ্বল করছে। ইনিংসের বয়স মাত্র ৭ ওভার। নাজমুল হোসেন শান্ত বোলার পাল্টে নাহিদ রানাকে আনলেন আক্রমণে। সময়ের অন্যতম দ্রুত গতির বোলারকে এনে পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার এলোমেলো করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। 

প্রথম বলেই সেই ছাপ। নাহিদের ভয়ঙ্কর শর্ট বল পুল করতে গিয়ে মিস করলেন অভিষিক্ত আজান আজওয়াইজ। বলের গতি ১৪১ কি.মি.। হেলমেটে আঘাত করায় রক্ষা। দ্রুত পাকিস্তানের ফিজিও মাঠে ঢুকে ২১ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে পরীক্ষা করলেন। খেলা থেমে থাকল প্রায় ৮ মিনিট। 

ইনিংসের শুরুতে মাথায় আঘাতের পর আজান মনোবল হারাননি। আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে দেননি। পরের বল আবার পুল করেই ১ রান নেন। এভাবে উইকেটে কাটিয়ে দিয়েছেন আরও ৪০ ওভার। পড়ন্ত বিকেলে অপরাজিত থেকে যখন ড্রেসিংরুমে ঢুকছেন তখন সতীর্থরা করতালিতে তাকে স্বাগত জানান। 

ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ৮৫ রান করেছেন ১২ বাউন্ডারিতে। ১৩৩ বল খেলে কোনো সুযোগ দেননি বাংলাদেশের বোলারদের। শুরুর ওই ধাক্কার পর কিভাবে আজান নিজেকে সামলে নিয়েছেন সেই গল্প জানা গেল দিন শেষে। 

তখন ক্রিজে ছিলেন ইমাম উল হক। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ইমাম বলেছেন, ‘‘আমরা জানতাম নাহিদ রানা এভাবেই বোলিং করবে। এ নিয়ে আমাদের মিটিংও হয়েছিল। কৃতিত্বটা সেই তরুণ ছেলেটিরই। প্রথম দ্রুতগতির বলটি তাকে আঘাত করার পর সে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, সেটা খুবই ভালো ছিল। এটা ছিল একদম সাধারণ কথা, আমি তাকে বলেছিলাম বলের দিকে নজর রাখতে, যা হয়েছে তা ভুলে গিয়ে আবার মনোযোগ ফেরাতে। সে চাপ সামলেছে এবং বুঝেছিল এই উইকেটে কীভাবে রান করতে হয়, এমনকি যখন ল্যাটারাল মুভমেন্টের কারণে ব্যাটিং কঠিন হয়ে উঠেছিল।’’

বাংলাদেশের করা ৪১৩ রানের জবাবে পাকিস্তান ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলেছে। ২৩৪ রানে এখনও তারা পিছিয়ে। দ্বিতীয় দিনের খেলায় পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও বেশ সতর্ক তারা, ‘‘হ্যাঁ, বলা যেতে পারে (পাকিস্তান এগিয়ে) । প্রতিপক্ষকে ১০০ রানের নিচে অলআউট করা এবং নিজেদের ১৭০/১ অবস্থানে নেওয়ার অর্থ হলো আমরা এই সেশনগুলো জিতেছি। তবে টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো, ম্যাচ খুব দ্রুত পাল্টে যেতে পারে। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, কারণ আগামীকালই ঠিক করবে ম্যাচ কোন দিকে যাচ্ছে।’’

পাকিস্তান প্রথম ঘণ্টাতেই ৫০ এর বেশি রান তুলে নেয়। সাবলীল ব্যাটিংয়েই পেয়েছেন এই রান। দিন শেষ করেছে ওভারপ্রতি ৪ রানের বেশি করে। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে, অযথা আক্রমণ না করে অনায়েসেই রান পেয়েছেন।

নিজেদের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়ে ইমাম বলেছেন, ‘‘সত্যি বলতে, আক্রমণাত্মক খেলার কোনো নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছিল না। তবে আধুনিক যুগের ব্যাটসম্যানরা অনেক সাদা বলের ক্রিকেট খেলে এবং তার প্রভাব তাদের খেলায় দেখা যায়। শুধু বল সামলে খেলার যুগ বদলে যাচ্ছে; এখন সর্বত্র ১৪০–১৫০ বলে সেঞ্চুরি হতে দেখা যায়। আমাদের তত্ত্ব ছিল সহজ, ‘বল দেখো, আর যদি সেটা রান করার জায়গায় থাকে, তাহলে বাউন্ডারি খোঁজো।’ এই ইতিবাচক মানসিকতাই আমাদের রান রেট বাড়াতে সাহায্য করেছে।’’

‘‘আমি বলব না যে আমরা পুরোপুরি ম্যাচে ফিরে এসেছি, কারণ ৪০০ এখনও বড় স্কোর এবং কয়েকটি দ্রুত উইকেটই সব বদলে দিতে পারে। তবে যদি আগামীকাল প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেলতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা শক্ত অবস্থানে থাকব।’’ –আগামীকালের পরিকল্পনা নিয়ে বলেছেন ইমাম।