পৃথিবীর সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়—মা। মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ আর দোয়ার প্রতিদান কখনোই শোধ করা সম্ভব নয়। আজ মা দিবসে আমার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটিকে নিয়ে কিছু কথা লিখছি।
ছোটবেলায় আম্মু আমাকে অনেক আদর-যত্ন করতেন। যখন একটু বুঝতে শিখেছি, তখনকার অসংখ্য স্মৃতি আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে আমার জন্য নাস্তা তৈরি করতেন। তারপর নিজ হাতে আমাকে রেডি করে দিতেন—পাঞ্জাবি, পায়জামা ও টুপি পরিয়ে দিতেন। আমার কিতাবগুলো নিজেই বহন করে আমাকে মাদ্রাসায় পৌঁছে দিতেন।
আমার মনে আছে, ২০১৬ সালে যখন আমি গুলশানে স্কুলে পড়তাম, তখনো আম্মু আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। ফুটবল খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলাম, তখনো তার অনুপ্রেরণাই আমাকে সুস্থ হতে সাহস জুগিয়েছিল। প্রতিদিন আমার টিফিন তৈরি করা, জামাকাপড় ধোয়া, পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া—সবকিছুই তিনি হাসিমুখে করতেন। নিজের কষ্ট কখনো বুঝতে দেননি; বরং সবসময় চেষ্টা করেছেন, আমি যেন ভালোভাবে বড় হতে পারি।
আমার জীবনের প্রথম শিক্ষকও আমার মা। ছোটবেলায় আমার লেখাপড়ার হাতেখড়ি। যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ—সবকিছুর প্রথম শিক্ষা আমি তার কাছ থেকেই পেয়েছি। কোনো কিছু একবারে বুঝতে না পারলে আম্মু কখনো বিরক্ত হতেন না; বরং ধৈর্য ধরে বারবার বুঝিয়ে দিতেন। আজ আমি যতটুকু শিখেছি, তার শুরুটাই হয়েছিল আমার মায়ের হাত ধরে।
আরেকটি ঘটনা আজও খুব মনে পড়ে। তখন আমার বয়স মাত্র ৫-৬ বছর। ধান সিদ্ধ করার চুলার আগুনে দৌড়ে গিয়ে আমার দুই পা পুড়ে যায়। সেই সময় আম্মু রাতের পর রাত জেগে আমার সেবা করেছেন। নিজের ঘুম আর কষ্ট ভুলে শুধু আমাকে সুস্থ করার চেষ্টা করেছেন।
আমি ভয় পেয়ে বলেছিলাম, “আম্মু, আমি তো আর সাইকেল চালাতে পারব না…।” তখন তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে বলেছিলেন, “কেন পারবা না বাবা? অবশ্যই পারবা।” সেদিন তিনি শুধু আমাকে সান্ত্বনাই দেননি, আমার ভেতরে আত্মবিশ্বাসও গড়ে তুলেছিলেন। আসলে ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্তে তিনি আমাকে সাহস, ভালোবাসা ও আত্মবিশ্বাস দিয়ে গেছেন।
২৪-২৫ সেশনে যখন আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা চলছিল, তখনো আম্মু আমাকে সবসময় বলতেন, “তুমি অবশ্যই ভালো কিছু করবে, তুমি ভার্সিটিতে চান্স পাবা।” তার দোয়া, ভালোবাসা ও উৎসাহের কারণেই আমি আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।
একটি শিশু জন্মের পর মায়ের সহযোগিতা ছাড়া সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠা সত্যিই অনেক কঠিন। মায়ের ভালোবাসা, যত্ন, শাসন ও দোয়া আমাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। ইসলামেও মায়ের মর্যাদা অনেক উঁচুতে। মায়ের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। হাদিসে এসেছে—“মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত।” আল্লাহ তাআলা যেন আমার মাকে সবসময় সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন এবং দীর্ঘ নেক হায়াত দান করেন।
লেখক: শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা