সিলেটে ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে হাম পরিস্থিতি। প্রতিদিনই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। রোগীর চাপে হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট।
কোথাও এক শয্যায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে দুই থেকে তিন শিশুকে, আবার কেউ কেউ চিকিৎসা নিচ্ছে হাসপাতালের মেঝেতে। সঙ্গে রয়েছে আইসিইউ সংকটও। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ২৩ শিশু।
সিলেট নগরীর শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে একসঙ্গে ১৪ শিশুকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এখানে আনা হয়। শিশুদের সবার শরীরেই ছিল হামের উপসর্গ।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন অভিভাবক জানান, কয়েকদিন ধরে শিশুদের জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে লালচে দানা দেখা দেওয়ার পর তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেকের অবস্থাই গুরুতর।
শামীম আহমদ নামে এক শিশুর স্বজন বলেন, “বাচ্চার হাম ধরা পড়ছে। ডাক্তাররা বলছেন, অবস্থা খারাপ, তাই হাসপাতালে আনছি।”
লুবনা আক্তার আরেক শিশুর মা বলেন, “দুইদিন ধরে বাচ্চার জ্বর আর শরীরে দানা উঠছে। শ্বাসকষ্টও শুরু হয়। স্থানীয় চিকিৎসক হাসপাতালে আনতে বলেন। এখানে এসে দেখি অনেক রোগী। তারপরও বাচ্চার চিকিৎসা যেন ঠিকমতো হয়, সেই চেষ্টা করছি।”
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে শুরু থেকেই হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, “রোগীর চাপ অনেক বেশি। কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তারপরও তাদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।”
এদিকে, চলতি সপ্তাহ থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালুর কথা থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। ফলে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে।
চিকিৎসকেরা বলছেন, দীর্ঘদিনের টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, শিশুদের সময়মতো টিকা না নেওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণেই এবার জটিলতা ও মৃত্যুর হার বেড়েছে।
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মর্তুজা আলী বলেন, “আমরা প্রতিরোধমূলক টিকা কার্যক্রম চালাচ্ছি, পাশাপাশি চিকিৎসাও দিচ্ছি। এর সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে সিলেটে মৃত্যুহার কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। আমরা অভিভাবকদের অনুরোধ করব, বাচ্চার জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে।”