সারা বাংলা

ঘটনার আগে মেয়েকে কোলে নিয়ে দোকানে গিয়েছিলেন ফোরকান

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের পাঁচ খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মিয়াকে নিয়ে নতুন নতুন তথ্য দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার আগের রাতেও তাকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখেছেন তারা। তখন তার কোলে ছিল ছোট মেয়ে, সঙ্গে ছিল আরেক কন্যা।

আরো পড়ুন: পরিবারকে আগেই হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন ফোরকান, দাবি স্বজনদের

দোকানি সুরমা আক্তার বলেন, ‍“রাত ৯টার দিকে সাদা টি-শার্ট পরা ফোরকান ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে তার দোকানে আসেন। তিনি জানতে চান, ভাবি, কিসমিস আছে? পরে মেয়ের জন্য দুটি চিপস কিনে দেন। তার হাতে একটি কাপড়ের ব্যাগও ছিল।”

তিনি জানান, ফোরকান নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। তিনদিন কিংবা কখনো সাতদিন পরপর বাড়িতে আসতেন। বাড়িতে এলেই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দোকানে আসতেন এবং তার জন্য খাবার কিনতেন।”

আরো পড়ুন: সব লাশের ওপর জিডির কপি, খতিয়ে দেখছে পুলিশ

তিনি বলেন, “যে মানুষটা মেয়েকে এত আদর করত, সে নিজের সন্তানদের গলা কাটতে পারে- এটা এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমাদের কখনো মনে হয়নি, তিনি এমন নিষ্ঠুর কাজ করতে পারেন।”

আব্দুর রশিদ নামে অপর এক দোকানি জানান, শুক্রবার (৮ মে) রাতে ফোরকানকে সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে দেখেছেন তিনি। তার কোলে ছোট মেয়ে ছিল এবং পাশে হাঁটছিল মাঝের মেয়েটি। দেখে কারো মনেই হয়নি, কয়েক ঘণ্টা পর নির্মম ঘটনা ঘটাবেন তিনি।

আরো পড়ুন: ‘চাকরি দেব’ বলে ডেকে এনে শ্যালককে হত্যা করা হয়েছে, স্বজনদের অভিযোগ

কাপাসিয়া সদর ইউনিয়নের বানার হাওলা গ্রামের শিক্ষার্থী কারিমা আক্তার জানান, ফেসবুকে ঘটনা দেখে মায়ের সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসেছেন। তার প্রশ্ন, একজন বাবা কীভাবে নিজের সন্তানদের এভাবে হত্যা করতে পারেন। তিনি জানান, নিহত শারমিন খানমকে দেখে কখনো মনে হয়নি তিনি খারাপ কিছুতে জড়িত ছিলেন।

জামিরারচর গ্রামের রাজমিস্ত্রী হাবিজুল ইসলাম মনে করেন, একজনের পক্ষে একা এত বড় হত্যাকাণ্ড ঘটানো কঠিন। তিনি বলেন, “একজন বাবা হয়ে তিন মেয়েকে জবাই করা কল্পনাতীত।”

আরো পড়ুন: স্ত্রী-সন্তান ও শ্যালককে কুপিয়ে হত্যা করেন গৃহকর্তা, ধারণা পুলিশের

রাউতকোনা কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান জানান, শনিবার সকালে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় বাড়ির সামনে ভিড় দেখে প্রথমে দুর্ঘটনা ভেবেছিলেন। পরে ভেতরে গিয়ে একসঙ্গে কয়েকটি মরদেহ দেখে হতবাক হয়ে যান। নিহত মিম খানম তারই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল বলে জানান তিনি। এমন নৃশংস ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেন সাব্বির।

গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশফাক জানান, নিহত শারমিন আক্তারের বাবা শাহাদাত মোল্লা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামি ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

আরো পড়ুন: কাপাসিয়ায় পাঁচজনকে হত্যা: গৃহকর্তা পলাতক

তিনি বলেন, “তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব ইউনিট ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”

শনিবার (৯ মে) ভোরে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার, তার তিন মেয়ে এবং ভাই রসুল মিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া। রবিবার (১০ মে) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তরপাড়া ফকিরবাড়ি পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি কবরে নিহতদের দাফন করা হয়।