সারা বাংলা

হাসপাতালে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনের ছাদে মুরগির খামার তৈরী করা হয়েছে। দুর্গন্ধের কারণে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন গড়েছেন এ খামার।

হাসপাতালের মূল ভবনের ৩০ মিটার দূরেই আবাসিক কোয়ার্টার। একটু বাতাস হলেই ছাদ থেকে ভেসে আসে মুরগির বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধ। এই উৎকট গন্ধে হাসপাতালের ওয়ার্ড ও কেবিনে থাকা রোগীরা অতিষ্ঠ।

ছেলের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা আফসানা আক্তার বলেন,“ছেলে পানি খেতে চেয়েছিল বলে কোয়ার্টারের সামনের টিউবওয়েলে গিয়েছিলাম। সেখানে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা! হাসপাতালের ভেতরে এমন খামার হয় কী করে? কর্তৃপক্ষ কি কিছুই দেখে না?”

বৃদ্ধ পথচারী আব্দুস ছাত্তার বলেন, “এমনিতেই শ্বাসকষ্টে ভুগছি। গন্ধে এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করা যায় না। যেখানে রোগ সারার কথা, সেখানে রোগের কারখানা বানানো হয়েছে। এটা চরম দুঃখজনক।” 

খামারের মালিক হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছেন, “এক মাস হলো খামারটি করেছি। একটু বৃষ্টি হয়েছে, তাই গন্ধ হচ্ছে। তাছাড়া, গন্ধ হয় না।” 

তিনি বলেন, “খামারে তিন শতাধিক ব্রয়লার মুরগি আছে। ২১ দিন বয়স হয়েছে। আজকেই এখান থেকে মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলব।”

হাসপাতালে মুরগির খামারের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানেন কি না, প্রশ্ন করা হলে পলি খাতুন বলেন, “স্যার খামারের বিষয়ে জানেন। আমি তাকে খামারে মুরগি তোলার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।” 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেছেন, “ওই কোয়ার্টার একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল। তাই, আমার আগের কর্মকর্তা পলি খাতুনকে ওখানে থাকতে দিয়েছিলেন।”

হাসপাতালের কোয়ার্টারে মুরগির খামার করার বিষয়টি জানেন না, দাবি করে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।”

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, “খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” 

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেছেন, “বিষয়টি আপনি নজরে আনলেন। আমি ইউএনওকে দেখতে বলছি।”