গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে আলোচিত পাঁচ হত্যাকাণ্ডের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তে জানা গেছে, নিহত মা শারমিন খানমসহ চারজনকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। অপর এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে।
শনিবার (৯ মে) সকালে উপজেলার রাউৎকোনা গ্রাম থেকে ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন (৩০), মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), মেয়ে ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল মিয়ার (২২) লাশ উদ্ধার করা হয়। ভাড়ায় চালিত গাড়ির চালক ফোরকানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জের সদর উপজেলায় মেরী গোপীনাথপুর এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে বছর খানেক ধরে ভাড়া থাকতেন। হত্যার পর থেকে ফোরকান পলাতক রয়েছেন।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল হক জানান, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই মেয়ে মীম ও মারিয়ার গলাকাটা জখমের কারণে মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সবচেয়ে ছোট শিশুকন্যাকে ফারিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, হত্যার আগে নিহতদের চেতনানাশক দ্রব্য বা বিষাক্ত কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি-না, তা জানতে পেটের খাদ্যসহ বিভিন্ন আলামতের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সব নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। প্রাথমিক পরীক্ষায় নমুনায় কোনো অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, এ ঘটনায় নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়াকে প্রধান আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো তিন থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ফোরকানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তিকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পুলিশের ধারণা, পলাতক ফোরকান মিয়াকে গ্রেপ্তার করা গেলে এই নৃশংস হত্যার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।
ঢাকা/রফিক/বকুল