আন্তর্জাতিক

চীনা এজেন্ট হওয়ার দায় স্বীকার মার্কিন মেয়রের

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসের আর্কাদিয়া শহরের সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াং চীনের ‘অবৈধ এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্কাদিয়া শহরের সাবেক মেয়র ওয়াং সরকারের অনুমতি ছাড়াই বেইজিংয়ের হয়ে প্রোপাগান্ডা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী ওয়াং ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত মার্কিন সরকারকে কোনো তথ্য না দিয়ে গোপনে চীনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন। তিনি ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি নিউজ পোর্টাল পরিচালনা করতেন। পোর্টালটি চীনা-আমেরিকানদের জন্য সংবাদ পরিবেশনের দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে বেইজিং-পন্থি প্রচারণা চালানো হতো।

মার্কিন প্রসিকিউটররা জানান, ওয়াং তার ওয়েবসাইটে চীন সরকারের কর্মকর্তাদের লেখা নিবন্ধ প্রকাশ করতেন। এমনকি জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুর মুসলিমদের ওপর চলা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে লেখা নিবন্ধও তিনি প্রচার করেছিলেন।

এই তথ্য সামনে আসার পর সোমবারই মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন আইলিন ওয়াং। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তিনি তার ‘ব্যক্তিগত জীবনের ভুলের’ জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তবে তাদের দাবি, ওয়াংয়ের এই কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত ছিল এবং এর সঙ্গে মেয়র হিসেবে তার দাপ্তরিক কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে দোষী সাব্যস্ত হলে ওয়াংয়ের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। এর আগে একই ঘটনায় তার সহযোগী ইয়ানিং সানকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ. আইজেনবার্গ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের উচিত কেবল দেশের জনগণের সেবা করা। চীনের নির্দেশে কাজ করা কোনো ব্যক্তি জনসেবার মতো বিশ্বস্ত পদে আসীন থাকা খুবই বিপজ্জনক, বিশেষ করে যখন সেই সম্পর্ক গোপন রাখা হয়।”

ওয়াংয়ের এই দোষ স্বীকারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বসতে যাচ্ছেন। বুধবারের এই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ, বিশ্ব বাণিজ্য ও তাইওয়ান সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।