দেশের ৩৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে ছাত্রদলের তিন নেতার বসাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সোমবার (১১ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের জিমনেশিয়ামে প্রতিযোগিতাটির পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
গত ৭ মে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতায় ব্যাডমিন্টনে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাকৃবি। এ অর্জনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হলেও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি আসন নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির তিন শীর্ষ নেতা—আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান, সিনিয়রযুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব এবং সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম অতিথিদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসেন। এতে আয়োজক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন। বিষয়টি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষের জন্ম দেয়।
উপস্থিত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের একাংশের ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে খেলায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া উচিত ছিল। তাদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে অন্যদের অগ্রাধিকার দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও দৃষ্টিকটু।
এ বিষয়ে বাকৃবির সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, “সমাপনী পর্বটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়নি। অনুষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পুরো আয়োজনজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-মর্যাদা জড়িত। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে বাকৃবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ. এম. শোয়াইব বলেন, “ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পরিচালকের আমন্ত্রণে তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।” উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কোষাধ্যক্ষসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা আসন গ্রহণ করার পরই তারা বসেন বলে দাবি করেন তিনি। অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর আর কারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসেছেন, সেদিকে খেয়াল করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
সদস্যসচিব শফিকুল ইসলাম বলেন, “ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।” তিনি দাবি করেন, শিক্ষকদের বসার জায়গা ছিল এবং অনেক আমন্ত্রিত অতিথিও উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত শিক্ষকদের কেউ কেউ ছবি তোলার সময় অতিথিদের আসনে বসতে চাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান বলেন, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাই তাকে বসতে বলেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সেখানে গিয়েছি। অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা রাখায় আমাদের সম্মান জানানো হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ছিল এবং সে কারণেই তিনি বিশেষ অতিথির আসনে বসেছেন। অন্য দুজনের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
এ বিষয়ে ক্রীড়া প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. আসাদুল হক সজল বলেন, “ব্যানারে উল্লেখ থাকা কয়েকজন অতিথি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে কিছু আসন ফাঁকা ছিল। পরে ছাত্রনেতারা সেখানে বসেন।”
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছাত্রনেতাদের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে অতিথিদের আসনে বসার সুযোগ সবার জন্য ছিল না, বলেও জানান তিনি।