গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। দলের ৮০ জনেরও বেশি এমপি সরাসরি পদত্যাগ দাবি করার পর আজ মঙ্গলবার এক বিভক্ত মন্ত্রিসভার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন তিনি। খবর আল-জাজিরার।
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় স্টারমারের থাকা না-থাকা নিয়ে বিভক্তি দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। সোমবার (১১ মে) ছয়জন মন্ত্রী পর্যায়ের সহকারী পদত্যাগ করার পর চাপ আরো তীব্র হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোন্স স্কাই নিউজকে জানান, প্রধানমন্ত্রী সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে জোন্স পরিষ্কার করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গতকালই স্পষ্ট করেছেন যে তিনি সরে দাঁড়াবেন না।”
সোমবার এক বক্তব্যে স্টারমার নির্বাচনের ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কনজারভেটিভ আমলের মতো ‘বারবার নেতা পরিবর্তনের বিশৃঙ্খলা’ তৈরি করলে দেশের মানুষ লেবার পার্টিকে ক্ষমা করবে না।
গত বৃহস্পতিবারের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আসন হারিয়েছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
লেবার পার্টিতে নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করতে হাউজ অব কমন্সের অন্তত ২০ শতাংশ বা ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন। স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
সোমবারের বক্তব্যে স্ট্যামার লেবার পার্টিকে ‘প্রতিবাদের নয়, বরং ক্ষমতার একটি মূলধারার দল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি কট্টর ডানপন্থি ‘রিফর্ম ইউকে’ ও ‘গ্রিন পার্টি’কে নিশানা করে দাবি করেন যে, উভয় দলই মানুষের ‘হতাশাকে পুঁজি করে তা প্রচার করে’। তিনি আরো বলেন, এই দুই দলের কেউই ‘বর্তমান সময়ের উপযোগী গম্ভীর ও প্রগতিশীল নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নয়’।
২০২৪ সালে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে স্টারমার ক্ষমতায় আসেন। তবে এরপর থেকে তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মধ্যে শীতকালীন জ্বালানি ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির নীতি এবং রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সম্পর্কের কেলেঙ্কারি তার জনপ্রিয়তা হ্রাসে ভূমিকা রেখেছে।
এই সময়ে রিফর্ম ইউকে ও প্রগতিশীল পোলানস্কির অধীনে গ্রিন পার্টির সমর্থন বৃদ্ধি পেয়েছে। পোলানস্কি গাজায় ইসরায়েলের চালানো যুদ্ধের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।