বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
সোমবার (১১ মে) পরিবেশ অধিদপ্তরের আয়োজনে বেরোবি ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভার্চুয়াল রুমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
এই পর্বে অংশ নেয় হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ, কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথম রাউন্ডে নকআউট পদ্ধতির বিতর্কে কারমাইকেল কলেজকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে বেরোবি। ফাইনাল রাউন্ডে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে তারা বিভাগীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। চ্যাম্পিয়ন বেরোবি দলের সদস্য ছিলেন আনিকা সামিহা নদী, রাইছুল হাসান ও ওবাইদুর রহমান শিশির।
বিজয়ী দলের বিতার্কিক আনিকা সামিহা নদী বলেন, “এই ধরনের বিতর্ক আয়োজনের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে ধন্যবাদ জানাই। তারা অত্যন্ত যুগোপযোগী একটি বিষয় বেছে নিয়েছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। বর্তমান তরুণ সমাজ পরিবেশ নিয়ে বেশ চিন্তিত, কারণ আমরা প্রতিনিয়ত চারপাশে ভয়াবহ দূষণ দেখতে পাই। যদিও এসব বিষয়ে কথা বলার লোক খুব কম, কিন্তু আমরা চাইলে নিজ নিজ জায়গা থেকে লড়াই চালিয়ে যেতে পারি। এই পরিবেশ বিতর্ক আমাদের জন্য তেমনই একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে ছাত্র উপদেষ্টা ইলিয়াস প্রামানিক বলেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখানকার সবুজের সমারোহ আমাদের গর্ব। এই গাছপালা ও প্রকৃতি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিতর্ক প্রতিযোগিতা প্রশংসার দাবি রাখে।”
তিনি আরো বলেন, “বিতার্কিকদের যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। বিতার্কিকরা শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অসংগতি ও ক্ষতির বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার থাকেন।” বিতর্ক সংগঠনগুলো ভবিষ্যতে আর ভালো আয়োজনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে সমৃদ্ধ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার ড. ফেরদৌস ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ মাজেদুল হক, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।