চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় মোহাম্মদ হাসান প্রকাশ রাজু হত্যা ও শিশু গুলিবিদ্ধের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যায় ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, গুলি ও পালানোর কাজে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) রাত থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) ভোর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন, সৈয়দুল করিম (২৭), মো. আবদুল মান্নান (৩৭), মো. ইউনুচ, মো. আয়াতুল্লাহ আলী আদনান (২১), মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে খোকন (৪৮) এবং আজগর আলী ওরফে বাচা মিয়া (৩৯)।
পুলিশ জানায়, গত ৭ মে রাত পৌনে ১০টার দিকে রৌফাবাদ শহীদ মিনার কলোনির পাশের বাঁশবাড়িয়া গলিতে আব্দুল হাইয়ের বাড়ির সামনে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ হয় ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার। গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত ছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এর পেছনে রাউজানের কদলপুর এলাকার পুরনো বিরোধ ও প্রতিশোধের বিষয়টি কাজ করেছে।
তিনি আরো বলেন, কিছু দিন আগে কদলপুর এলাকায় ‘মধু নাসির’ নামে এক ব্যক্তি খুন হয়। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে রাজুও ছিল। সেই হত্যার প্রতিশোধ নিতে তাকে টার্গেট করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার সৈয়দুল করিম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে গুলি চালিয়ে রাজুর মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা শনাক্ত করে। পরে অটোরিকশাচালক আবদুল মান্নানকে গ্রেপ্তার করা হলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল শ্যুটার করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে করিমের বাসা তল্লাশি করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং রক্তমাখা টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। আবু বক্কর ছিদ্দিকের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়া করিম ও আজগর আলীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। আহত শিশুটির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।