সিলেটে ব্যবসায়ীদের অন্যতম শীর্ষ সংগঠন সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে গত দুই বছর। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এই অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর শেষ মুহূর্তে ভোট স্থগিত হয়ে যাওয়ার গত ছয় মাস পার হলেও এখনো নতুন করে নির্বাচনের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় চেম্বারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে, যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে।
চেম্বারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন নেতৃত্বে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। ওই সময়ের পর সভাপতি পর্যায়ের নেতৃত্ব কার্যত সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ালে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। পরে সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়। এর আগে গত বছর ৪ আগস্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ১ নভেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ২৬ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।
পরে উচ্চ আদালত ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রশাসনিক জটিলতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধীরগতির কারণে পুরো প্রক্রিয়া এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নেতৃত্ব সংকটের কারণে তারা বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক সমস্যার কার্যকর সমাধান পাচ্ছেন না। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য যে ধরনের প্রতিনিধিত্বমূলক উদ্যোগ দরকার, তা এখন অনুপস্থিত।
সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, ‘‘ব্যবসায়ীরা নানা সময়ে সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। নির্বাচিত নেতৃত্ব থাকলে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হতো। কিন্তু এখন প্রতিনিধিত্ব না থাকায় উদ্যোক্তা ও আমদানিকারকেরা তাদের সমস্যাগুলো সঠিক জায়গায় তুলে ধরতে পারছেন না।’’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন আয়োজন বিলম্বিত হওয়া অস্বাভাবিক। তার ভাষায়, “একদিকে মন্ত্রণালয়, অন্যদিকে জেলা প্রশাসন—দুই পক্ষের বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এ কারণে পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যাচ্ছে না।”
অন্যদিকে সাবেক সভাপতি খন্দকার শিপার আহমদ বলেন, ‘‘নেতৃত্বহীনতার কারণে পুরো ব্যবসায়ী মহল একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। একটি সংগঠনের যদি নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকে, তাহলে কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে এগোতে পারে না। ব্যবসায়ীরা এখন দিকনির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছেন না। দ্রুত নির্বাচন আয়োজন ছাড়া বিকল্প নেই।”
এদিকে চেম্বারের বর্তমান প্রশাসক পিনকি সাহা জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতি থাকলেও কিছু প্রশাসনিক জটিলতার এখনো সমাধান হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা না আসায় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।’’