ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক নুর আলম ও তাঁর একমাত্র ছেলে নুর হাসনাত নীরবের জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে বাবা-ছেলেকে দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে বাদ আসর ফেনীর মিজান ময়দানে পিতা-পুত্রের জানাজা হয়। জানাজায় সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মী, সহকর্মী, আত্মীয়-স্বজনসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেয়।
জানাজা শেষে মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। সহকর্মীর প্রতি ভালোবাসা ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে অন্তত ২০টি অ্যাম্বুলেন্সের বহর মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শহরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সন্ধ্যার দিকে বহরটি সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে পৌঁছায়। অ্যাম্বুলেন্স বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
ফেনী জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, নুর আলম দীর্ঘদিন ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন। এলাকার প্রবীণ মুরব্বি আবদুল মোতালেব বলেন, ‘‘পিতা-পুত্রের একসঙ্গে মৃত্যু, জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা তেমন দেখা যায় না। বেদনাদায়ক ঘটনার সাক্ষী হলাম।’’
পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে বাবা-ছেলেকে দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার হাফেজিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে নুর আলম নিহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় তাঁর ছেলে নীরব। এ ঘটনায় আহত হয় তাঁর ভাগিনা আফজাল মিঠু।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম।