সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
মরহুমের বড় ছেলে সাবেদুর রহমান সুমু এ তথ্য জানিয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কয়েকদিন ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। বুধবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পরিবার।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। পরে স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
১৯৬৬ সালে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। লাহোরে অধ্যয়নকালেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন এম এ আজিজের হাত ধরে।
১৯৭০ সালে প্রথমবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে চট্টগ্রামে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শুভপুর সেতু উড়িয়ে দেওয়ার অভিযানে নেতৃত্ব দেন তিনি। পরে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন গেরিলা অভিযানে অংশ নেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালেও তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
দলীয় রাজনীতিতে তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।