গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় জমির ধান কাটতে পারছিলেন না বিধবা নারী নমিতা বিশ্বাস। ফলে বিপাকে পড়েন তিন সন্তানের এই জননী। তার এমন পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই নারীর ২ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ৬ টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াধানা গ্রামে গিয়ে নমিতা বিশ্বাসের জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেন তিনি। এ সময় সংসদ সদস্য মাঠে কাজ করা অন্য কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার শোনেন।
বিধবা নমিতা বিশ্বাস বলেন, “আমার স্বামী মারা গেছেন। সংসারে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। জমির ধান কাটতে প্রতিদিন শ্রমিককের মূল্য ১ হাজার ২০০ টাকা। টাকা না থাকায় জমির ধান কাটতে পারছিলাম না। সংসদ সদস্য জিলানী সাহেব লোকজন নিয়ে আমার জমির ধান কেটে দিয়েছেন। আমার অনেক উপকার হয়েছে।
সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, “চলতি মৌসুমে ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া কষ্টসাধ্য। অনেক মানুষ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাচ্ছে না। এজন্য দল থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যে, গবিব অসহায় যেসব কৃষক যারা ধান কাটতে পারছেন না, তাদের ধান কেটে বাড়িতে উঠিয়ে দিলে তারা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। তাই আগামী এক সপ্তাহ ধান কাটতে মানুষের পাশে দাঁড়াব।”
তিনি বলেন, “কৃষকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো সবার নৈতিক দায়িত্ব। কৃষির উন্নয়নে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
এসময় টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা, খালিদ বিশ্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি এমদাদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সরকার, পাটগাতী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নান্টু শেখ, গোপালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপক চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক জসিম শেখসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।