সারা বাংলা

শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ, প্রতিবেশী কিশোর আটক

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ৪ বছর বয়সী এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর ভুট্টা ক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১৪ বছর বয়সী প্রতিবেশী কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একই এলাকার এক ব্যক্তি ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা সেখানে ছুটে আসেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নেওয়া হয়।

রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী জানিয়েছেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তা স্বীকার করেছে। 

ওসি আরো জানান, শিশুটির মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার (১৩ মে) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল।

এ ঘটনায় চেংমাড়ি জোসপাড়া এলাকার বাসিন্দা মহসিনা বেগম জানান, বুধবার দুপুরে তিনি ভুট্টা ক্ষেতে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন। এ সময় শিশুটিকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছিল সেই কিশোর। শিশুটির লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সন্দেহ করেন ওই কিশোরকে। পরে তারা ওই কিশোরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

নিহত শিশুর চাচা তরিকুল ইসলাম বলেন, “গতকাল থেকেই আমরা পাগলের মতো তাকে খুঁজছি। মাইকিং করেছি সব জায়গায়। বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেশীর তার মরদেহ দেখতে পাই। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।”

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন ও সহকারী পুলিশ সুপার স্নেহাশিষ কুমার দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।