আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ের কোরবানির পশুর বাজারে আলোচনায় ১৯০০ কেজি ওজনের ষাঁড় ‘রাজাবাবু’। এর সঙ্গে রয়েছে ১৭৫০ কেজি ওজনের ‘কালাবাবু’ এবং ১৬৮০ কেজির ‘ধলাবাবু’।
বিশাল দেহের এ সব গরু দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ আবার দাম ও ওজন নিয়ে হিসাব কষছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কালিতলায় অবস্থিত বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মে তিন বছর ধরে গরুগুলো লালন-পালন করা হয়েছে। খামারে ঢুকতে চোখে পড়ে রাজাবাবুকে। বিশাল আকৃতির কারণে খামারের অন্য গরুগুলোর তুলনায় সহজে নজর কাড়ে। খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, কোরবানির বাজারে গরুগুলো কেজি দরে বিক্রি করা হবে। প্রতি কেজির দাম ধরা হয়েছে ৪৫০ টাকা।
ফার্মের পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম উপায়ে গরুগুলো মোটাতাজা করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাবার খাইয়ে এগুলো বড় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “রাজাবাবুকে আমরা প্রায় তিন বছর ধরে লালন-পালন করছি। প্রতিদিন নিয়ম করে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুষি, ভুট্টা ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। রাজাবাবুর ওজন প্রায় ১৯০০ কেজি, কালাবাবুর ১৭৫০ কেজি এবং ধলাবাবুর ওজন প্রায় ১৬৮০ কেজি। আমরা কেজি দরে ৪৫০ টাকা করে বিক্রির পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি, ভালো ক্রেতা পাব।”
খামারে কর্মরত আফছার আলী জানান, এত বড় গরু সামলাতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। তিনি বলেন, “সকালে গোসল করানো থেকে শুরু করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, খাবার দেওয়া সবকিছুই নিয়ম মেনে করতে হয়। এত বড় গরু হলেও এটি অনেক শান্ত স্বভাবের।”
আরেক কর্মচারী রাসেদ বলেন, “গরুগুলোকে আমরা পরিবারের সদস্যের মতো দেখাশোনা করি। কোনো সময় অবহেলা করা হয়নি। বিশেষ করে খাবারের মানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাজাবাবুকে দেখতে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসছে। সবাই ছবি তোলে, ভিডিও করে।”
খামারে গরু দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা রাজিব হোসেন বলেন, “এত বড় গরু আমি আগে কাছ থেকে দেখিনি। রাজাবাবুকে দেখতে সত্যিই অবাক লাগে। এখন সবার মধ্যে একটাই আলোচনা, এত বড় গরু শেষ পর্যন্ত কে কিনবে!’’
রাজাবাবুকে কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁও শহরের ব্যবসায়ী মাহবুব আলম। তিনি বলেন, “আমি পরিবার নিয়ে খামারে এসে গরুটি দেখেছি। রাজাবাবুর আকার ও পরিচর্যা দেখে ভালো লেগেছে। কোরবানির জন্য বড় গরুর আলাদা চাহিদা থাকে। দামটা বেশি হলেও যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে কেনার বিষয়ে চিন্তা করছি।”
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে বড় আকারের গরুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে খামারে এসে গরু দেখে যাচ্ছেন। শুধু স্থানীয় নয়, পাশের জেলা থেকেও মানুষ আসছেন বিশাল আকৃতির রাজাবাবুকে এক নজর দেখতে।
ঠাকুরগাঁও বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মের কর্ণধার শামীম আহমেদ জানান, ক্রেতাদের সুবিধা বিবেচনায় তারা কেজিদরে গরু বিক্রি শুরু করেছেন। গত বছর বেশ সাড়া পেয়ে এবার বেশি সংখ্যক গরু প্রস্তুত করেছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু কিনতে ক্রেতারা ভিড় করছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইজাহার আহমেদ খান জানান, জেলার সবচাইতে বড় তিনটি গরু বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্মে প্রস্তুত করা হয়েছে। খাবারে ক্ষতিকর কিছু ব্যবহার না করা হয়, সেই দিকে খোঁজখবর রেখেছেন।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলায় লক্ষাধিক পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।