রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামানের একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে এক নারীর সঙ্গে তাকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়।
শেখ কামরুজ্জামানের দাবি, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাকে সমাজের কাছে খারাপ প্রমাণ করতে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে।
শেখ কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা আছে। সম্প্রতি এই মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে আবেদনও করা হয়েছে। আলোচিত এই প্রকৌশলী দুদকের একাধিক মামলা চলমান থাকলেও তিনি স্বপদে আরডিএতে বহাল আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে একই বছরের ১৭ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক আব্দুল করিম শাহমখদুম থানায় মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের উপ-পরিচালক ফরিদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় শেখ কামরুজ্জামানের পাশাপাশি আরডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রব জোয়ার্দ্দারকেও অভিযুক্ত করা হয়।
দুদক ২০২২ সালের ১ জুন শেখ কামরুজ্জামান এবং ২ জুন তার স্ত্রী নিশাত তামান্নার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করে। পরে ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। ওই সময় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতার প্রভাব ব্যবহার করে বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করিয়ে আবার চাকরিতে যোগ দেন। যদিও তার দাবি, হাইকোর্ট থেকে তিনি ছয় মাসের স্থগিতাদেশ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে আর নতুন কোনো স্থগিতাদেশ না নিয়েও তিনি চাকরিতে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রী নিশাত তামান্না নিজেদের বিএনপিপন্থি সংগঠনের নেতা দাবি করে দুর্নীতির মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক উল্লেখ করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। পরে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন কমিটি মামলাগুলো প্রত্যাহারের সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। কমিটির সদস্য ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার ও পাবলিক প্রসিকিউটর।
রাজশাহীর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রইসুল ইসলাম বলেন, “যাচাই-বাছাই শেষে মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মনে হওয়ায় প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে।” তিনি দাবি করেন, শেখ কামরুজ্জামান জাতীয়তাবাদী প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাবের নেতা এবং তার স্ত্রী জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রী।
দুদকের রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফজলুল বারী বলেন, “শেখ কামরুজ্জামান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা আদালতে চলমান। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে দুদককে কেউ অবহিত করেনি এবং মতামতও চাওয়া হয়নি।”
ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে শেখ কামরুজ্জামান দাবি করেছেন, “এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় একটি চক্র আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমার সম্মানহানি ও আমাকে সমাজের কাছে খারাপ প্রমাণ করতে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, “বিষয়টি এখনো তার নজরে আসেনি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দুদকের মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”