বিনোদন

অভাবের দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে কাঁদলেন তমা

বাইরে থেকে রুপালি জগত বরাবরই ঝলমলে। এ অঙ্গনের তারকাদের জীবনও তেমনই দেখা যায়। কিন্তু বাস্তব জীবনে অন্য অনেকের মতো তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনে রয়েছে—কষ্ট, সংগ্রাম ও পরিশ্রমের অধ্যায়। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে পরিবার নিয়ে কঠিন সময় পার করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী তমা মির্জা। 

কয়েক দিন আগে একটি টিভি অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন তমা মির্জা। এ আলাপচারিতায় তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, জীবনে কখনে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন কি না? জবাবে তমা মির্জা বলেন, “অসংখ্যবার, অগণিতবার পড়েছি। ওই সংগ্রামের গল্প বলার মতো সময় আপনার অনুষ্ঠানের নেই।”  

খানকিটা সময় নিয়ে সংগ্রামের গল্প বলতে শুরু করেন তমা মির্জা। তিনি বলেন, “প্রথম পাঁচ-ছয় বছর আমার অনেক স্ট্রাগল ছিল। বিশেষ করে আব্বু যখন চাকরি ছেড়ে দিলেন। তুর্যর স্কুলের ফি, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি, আব্বুর চিকিৎসার খরচ, সংসারের খরচ—এতকিছুর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছিলাম না। এমন অনেক রাত আছে, যে রাতে আমি আমার আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছি; আম্মুও আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে। কিন্তু আমরা তুর্যকে মানে আমার ছোট ভাইকে বুঝতে দেইনি।” 

একটি ঘটনা বর্ণনা করে তমা মির্জা বলেন, “একবার খুবই বাজে সময়ের মধ্যে পড়েছিলাম। এখন আমার শুটকি অনেক পছন্দ; কিন্তু যখন আব্বুর চাকরি ছিল, তখন আম্মু কখনো শুটকি বাসায় আনতেন না। কারণ শুটকি মাছের গন্ধ ছড়ায়। আমি আম্মুকে বলতাম, তুমি রান্না করতে পারো না, তাই আনো না। শুটকি তো অনেক মজার খাবার। আমি কখনো খাইনি, আমার ভাইও কখনো খায়নি। আমাদের তখন এমন ক্রাইসিস যাচ্ছে, তখন শুটকির দাম সবচেয়ে কম ছিল। ওই সময়ে আম্মু শুটকি, ডাল আর ভাত রান্না করতেন। এটা নিয়ে আম্মুর খুব মন খারাপ হয়েছিল। বাবু (তুর্য) মুরগির মাংস ছাড়া ভাত খেতে পারে না, তখন ও শুধু ডাল দিয়ে ভাত খেয়েছিল, এটা দেখে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।”   

তমা মির্জা কথাগুলো বলতে বলতে কাঁদতে থাকেন। চোখের পাতা ভিজে উঠে তার। মুহূর্তের মধ্যে পরিবেশ খুব ভারী হয়ে ওঠে। নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে তমা মির্জা বলেন, “এরপর আমরা, আমাদের পরিবার অনেকটা পরিশ্রম করেছি। সর্বশেষ আমরা সফল হই। আমার আম্মু চাকরি করেছেন, আব্বু অনেক কিছু করেছেন। তারপর আবার সুন্দর একটা জীবন ফিরে পাই। আলহামদুলিল্লাহ! এখন আমরা অনেক ভালো আছি।”

২০১৫ সালে শাহনেওয়াজ কাকলি পরিচালিত ‘নদীজন’ সিনেমায় অভিনয় করে ‘শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তমা মির্জা। এছাড়া এ চিত্রনায়িকা অভিনয় করেছেন শাহীন সুমনের ‘মনে বড় কষ্ট’, অনন্ত হীরা পরিচালিত ‘ও আমার দেশের মাটি’,  শাহাদাৎ হোসেন লিটনের ‘অহংকার’, দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘চল পালাই’, রয়েল খানের ‘গেইম রিটার্নস’, মারিয়া তুষারের ‘গ্রাস’, রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ প্রভৃতি সিনেমায়।