ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তেহরানের ‘কোনো আস্থা নেই’। ওয়াশিংটন কেবল আন্তরিক হলেই তেহরান তাদের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। শুক্রবার (১৫ মে) নয়াদিল্লিতে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।
আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলো ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যে জাহাজগুলো এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে চায়, তাদের ইরানের নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’ বলেও জানান তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে এই প্রণালিটি বেশিরভাগ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হতো।
ওয়াশিংটন ও তেহরান গত মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি সম্পাদনে হিমশিম খাচ্ছে। গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা স্থগিত রয়েছে।
আরাঘচি বলেন, ‘পরস্পরবিরোধী বার্তা’ আলোচনার বিষয়ে আমেরিকানদের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমাদের সন্দিহান করে তুলেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়নি, তবে এটি ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে।
তিনি জানান, ইরান কূটনীতিকে সুযোগ দিতে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবে লড়াইয়ে ফিরে যেতেও প্রস্তুত।
শুক্রবার আরাঘচির এই বক্তব্যটি এমন সময় আসলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের প্রতি তার ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে।