আন্তর্জাতিক

জালিয়াতির মামলা নিস্পত্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ২ কোটি ডলার দিচ্ছেন আদানি

মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়ের করা একটি জালিয়াতি মামলা নিষ্পত্তির জন্য ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি এবং তার ভাগ্নে সাগর আদানি যৌথভাবে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার (১৫ মে) বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২৪ সালে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ আদানিদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের জন্য ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া এবং বন্ড অফারিংয়ের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের চেষ্টার সময় ঘুষবিরোধী নীতি সম্পর্কে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনেছিল।

আদানি গ্রুপ ভারতের অন্যতম বৃহত্তম ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, যার জ্বালানি এবং বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক স্বার্থ রয়েছে।

প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে অভিযোগগুলোর কোনো স্বীকারোক্তি বা অস্বীকার অন্তর্ভুক্ত নেই। এটি আদানিদের বিনিয়োগকারী প্রতারণা, সিকিউরিটিজ জালিয়াতি এবং বাজার কারসাজি সংক্রান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান জালিয়াতি-বিরোধী আইন ভবিষ্যতে লঙ্ঘন করা থেকেও বিরত রাখবে।

২০২৪ সালের মামলায় সিকিউরিটিজ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আদানিদের বিরুদ্ধে ৭৫ কোটি ডলার সংগ্রহের অভিযোগও এনেছিল, যার মধ্যে প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাথ ডলার ছিল মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে। একই সাথে, আদানি গ্রিন এনার্জির ঘুষবিরোধী আইন মেনে চলার বিষয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগও ছিল। আদানি গ্রুপ এই অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে।

ফোর্বসের মতে, ৬৩ বছর বয়সী আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮২ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।

অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস, রয়টার্স এবং ব্লুমবার্গ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, মার্কিন বিচার বিভাগ গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাহার করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, আদানি গ্রুপ রবার্ট জে জিউফ্রা জুনিয়রের নেতৃত্বে আইনজীবীদের একটি নতুন দল নিয়োগ করার পর বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আসে। জিউফ্রা জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী একটি আইন সংস্থার প্রধান এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনি উপদেষ্টাদের একজন। গোপনে অর্থ প্রদানের মামলায় ট্রাম্পের ফৌজদারি দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য যে আইনজীবীদের নিয়োগ করা হয়েছিল, জিউফ্রা ছিলেন তাদেরই একজন।

টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, জিউফ্রা গত মাসে বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে মামলাটি নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি ওই সময় জানিয়েছিলেন, যদি প্রসিকিউটররা আদানির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন, তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবেন এবং ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। 

সূত্রগুলো টাইমসকে জানিয়েছে, আদানির মামলা প্রত্যাহারের ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে বিদেশি ঘুষের মামলাগুলো থেকে সরে আসার একটি বৃহত্তর পদক্ষেপের প্রতিফলন।