বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে তা হতে হবে সমান মর্যাদার ভিত্তিতে।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, “ফারাক্কা ব্যারাজ শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, ভারতের জন্যও বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, “কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষার নামে বাংলাদেশকে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”
প্রশ্ন হচ্ছে, ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়োজন কী ছিল? ভারতেরই খ্যাতিমান প্রকৌশলী কপিল ভট্টাচার্য শুরু থেকেই এ প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন যে এর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
রিজভী বলেন, “ফারাক্কা লংমার্চ দিবস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। কারণ ধীরে ধীরে এ ইতিহাস মানুষ ভুলে যাচ্ছে। বিএনপি এবার বড় পরিসরে দিবসটি পালন করছে যাতে নেতাকর্মীরা ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব ও এর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে জানতে পারেন।”
রিজভী দাবি করেন, “ভারতের বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও ফারাক্কা ব্যারাজ অপসারণের কথা বলেছেন। এছাড়া, নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটকর ও নদী আন্দোলনের কর্মী হিমাংশু ঠাক্করও ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।”
তিনি আরো বলেন, “ফারাক্কার কারণে বাংলাদেশের নদ-নদী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চল ও পদ্মা তীরবর্তী এলাকায় পানির স্তর নেমে যাওয়ায় আর্সেনিকের বিস্তার বেড়েছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”
রিজভী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে বাঁধ অপসারণ করা হচ্ছে। নদীর গতিপথ বন্ধ করে দিলে নদী একসময় মরে যায়।” ফারাক্কা ব্যারাজও তেমন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন আব্দুল মইন খান, বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালি।