গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন ফোরকান মোল্লার খোঁজে যখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর, ঠিক তখনই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ফোরকান মোল্লার বলে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করলেও পুলিশ বলছে, চূড়ান্ত পরিচয় নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইলিয়াস জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় নিশ্চিত করতে ফোরকান মোল্লার ভাই জব্বার মোল্লাকে ডাকা হয়। তিনি প্রাথমিকভাবে মরদেহটি তার ভাই ফোরকান মোল্লার বলে শনাক্ত করেন।
তবে, কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, মরদেহে পচন ধরায় নিশ্চিতভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পাশাপাশি ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে মরদেহটি আসলেই ফোরকান মোল্লার কি না।
গত ১০ মে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ফোরকান মোল্লার স্ত্রী, তিন কন্যা সন্তান এবং শ্যালক। এ ঘটনায় ফোরকান মোল্লাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এই ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় নিশ্চিত হলে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে।