স্কোর: পাকিস্তান ৯৬/৪ (লাঞ্চ)
দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশন বাংলাদেশ নিজেদের করে নিয়েছে। পাকিস্তানের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে স্বস্তির সেশন কাটিয়েছে স্বাগতিকরা। ২৪ ওভারে বাংলাদেশ ৭৫ রান দিয়েছে। সব মিলিয়ে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ৯৬।
দিনের প্রথম ঘণ্টায় তাসকিন জোড়া সাফল্য পান। দ্বিতীয় ঘণ্টায় মিরাজের পকেটে জোড়া উইকেট। উইকেট আরও একটি বাড়তে পারত। যদি বাবর আজমের একটি শট উইকেট রক্ষক লিটন দাসের নাগালে থাকত।
বাবর ৩৭ ও সালমান ৬ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম সেশন শেষ করেছেন। পাকিস্তান পিছিয়ে আছে ১৮২ রানে।
সৌদকে আউট করে মিরাজের দ্বিতীয় উইকেট
নড়বড়ে শুরুর পর নাহিদ রানাকে দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভে চার মেরে খানিকটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পান সৌদ শাকিল। সেই আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি পেয়ে মিরাজকে সুইপ করতে গিয়েছিলেন সৌদ। বিপদ ডেকে আনেন ওই শটেই।
আগেভাগে শট খেলে বল টপ এজ করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। লিটন উইকেটের সামনে এসে বল গ্লাভসবন্দী করতেই মহা আনন্দ বাংলাদেশ শিবিরে। বাংলাদেশ তুলে নিল পাকিস্তানের চতুর্থ। মিরাজ এই স্পেলে পেল দ্বিতীয় সাফল্য। ২৮ বলে ৮ রান করে সৌদ আউট হলেন। প্রথম টেস্টেও সৌদকে আউট করেছিলেন মিরাজ।
উইকেটে বাবরের নতুন সঙ্গী সালমান আগা।
মিরাজের হাত ধরে আসল তৃতীয় সাফল্য
স্পিড স্টার নাহিদ রানা রিভিউ নিয়ে পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদকে ফেরাতে চেয়েছিলেন। ভাগ্যকে পাশে পাননি। তবে শান মাসুদের উইকেট নিতে দেরি করেননি মেহেদী হাসান মিরাজ।
অফস্পিনার নিজের দ্বিতীয় ওভারে দলকে সাফল্য এনে দিলেন। তার শর্ট বল জায়গা বানিয়ে খেলতে গিয়ে শর্ট কাভারে ক্যাচ দেন শান। সেখানে দলের বদলি ফিল্ডার নাঈম ছিলেন অতন্দ্র প্রহরী। দ্রুত আসা বল হাতে জমিয়ে ফেলেন চোখের নিমিষেই।
২৬ বলে ২১ রান করে শান ফিরলেন। পাকিস্তান হারাল তৃতীয় উইকেট। উইকেটে বাবর আজমের সঙ্গী সৌদ শাকিল।
তাসকিনের আরেকটি, শরিফুল রেখেছেন চাপে
দুই পেসারের আক্রমণে কাঁপছে পাকিস্তান। এক প্রান্তে শরিফুল। আরেকপ্রান্তে তাসকিন।
দিনের দ্বিতীয় ওভারে তাসকিন আউট করেন আব্দুল্লাহ ফজলকে। পরের ওভারে আরেক ওপেনার আজান আরওয়াইজকে নাড়িয়ে দেন। ওভারের চারটি বলে তাকে বিট করেন। ধারালো ওই আক্রমণের পর আজান ছিলেন নড়বড়ে।
সুযোগটি কাজে লাগিয়ে তাসকিন পরের ওভারে তুলে নেন তার উইকেট। লেন্থ বল ঠিকঠাক ব্যাট লাগিয়েছিলেন আজান। কিন্তু তার ব্যাট নড়ে যায়। শর্ট স্কয়ার লেগের থেকে একটু পিছিয়ে ফিল্ডিংয়ে ছিলন মুমিনুল। বল তার হাতে জমা পড়তেই উল্লাস শুরু হয়ে যায় বাংলাদেশ শিবিরে।
৩৪ বলে ১৩ রান করে ফিরলেন আজান। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান বাবর আজম।
দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য
তাসকিন আহমেদের ব্যাক অব লেন্থ বল অফস্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল ব্যাটটা চেয়েও সরাতে পারেননি। আলতো চুমু খেয়ে বল উইকেটের পেছনে।
সেখানে বামদিকে ঝাপিয়ে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই সাফল্য বাংলাদেশের পেস বোলার তাসকিনের। প্রথম ওভারটি করেছিলেন শরিফুল ইসলাম।
রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে দিনটা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিল স্বাগতিকরা সেভাবেই পেরেছে। পাকিস্তানের ওপেনিং জুটি ভাঙা গেছে দ্বিতীয় ওভারেই। ২১ বলে ৯ রান করে ফেরেন ফজল। উইকেটে নতুন ব্যাটসম্যান পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ।
প্রথম দিন লিটন দাসের দুর্দান্ত শতকে বাংলাদেশ ২৭৮ রানের পুঁজি পায়। লিটন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় শতক তুলে ১২৬ রান করেন। ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর লিটনের দলকে উদ্ধার করেন। তার অতিমানবীয় ইনিংসে ভর করেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় কাঙ্খিত পুঁজি। এবার বোলারদের নিজেদের প্রমাণের পালা।