জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় জড়িত বহিরাগতকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিকে ধরতে ব্যর্থ হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (১৬ মে) বেলা ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাকসু নেতারা এ ঘোষণা দেন।
এ সময় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—আসামিকে গ্রেপ্তারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ, প্রশাসনিক গাফিলতি খতিয়ে দেখতে রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরিয়াল বডির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা।
সংবাদ সম্মেলনে জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “আসামিকে ধরতে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দুই কর্মদিবসের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কেও আমাদের কিছু জানানো হয়নি।”
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, “তদন্তে সমন্বয়হীনতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআইনির্ভর ভুয়া ছবি ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত অভিযুক্তকে শনাক্ত করার প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।”
শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “ঘটনার পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কাজ করছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, “ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং এর পেছনের প্রশাসনিক গাফিলতি চিহ্নিত করতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।”